রংপুরে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ এএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরে অপহরণের শিকার ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। এ ঘটনায় দায়ের করা অপহরণ মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে রংপুরের গংগাচড়া থানার বড়বিল আদর্শপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন বড়বাড়ি বয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বয়স ১৪ বছর। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে রাজুক ইসলাম মিম (২১) নামে এক যুবক তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে রাজুক ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অপহরণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে যাওয়ার পথে তাজহাট থানার দর্শনা মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর বাবা মো. রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৩।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর সদর কোম্পানির একটি দল গংগাচড়া থানাধীন বড়বিল আদর্শপাড়া গ্রামের আলমাস ডাক্তার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার প্রধান আসামি রাজুক ইসলাম মিমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— রাজুক ইসলাম মিম (২১), তার বাবা মো. রবিউল ইসলাম (৫৫), ময়না বেগম ওরফে রুবি (৪৫), আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু রোজ ইসলাম (১৬) এবং আইরিন আক্তার (৫৬)।
এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।