সবাইকে হারিয়ে নিস্ব জাহানারা বেগম; শেষ সম্বল পা-টিও কেটে ফেলার পরামর্শ চিকিৎসকদের
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
মোছা: জাহানারা বেগম (৬৫)। এক সময় স্বামী, এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তিনি একেবারেই একা, নিস্ব। জীবনের সব আলো কেড়ে নিয়ে ২০১০ সালে মারা যান তার স্বামী আয়েজ উদ্দিন প্রামাণিক। এরপর ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া প্রবাসী একমাত্র ছেলে জাহিদুল ইসলামও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।
এক মাত্র মেয়ে মেরিনা আক্তারও বিয়ের পর এখন স্বামীর সংসারে। মাথার ওপর থেকে সব ছায়া সরে যাওয়ার পর বৃদ্ধা জাহানারার জীবনে নেমে আসে তীব্র একাকিত্ব আর নিদারুণ কষ্ট। ঠিক যখন বেঁচে থাকার অবলম্বনটুকুও হারিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ২০২৪ সালে তার শরীরে ধরা পড়ে নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস। কষ্টের এখানেই শেষ নয়, পরের বছর হঠাৎ করেই তার বাম পায়ের বুড়ো আঙুলে একটি ছোট ঘা দেখা দেয়। এরপর জয়পুরহাট ও বগুড়ার একাধিক নামী-দামী চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সেই ঘা ভালো করা যায়নি।
বর্তমানে পায়ের অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে, সেই ক্ষত হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জাহানারার প্রাণ বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে তার বাম পা-টি কেটে ফেলতে হবে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যিনি আজ দুবেলা ঠিকমতো খাবারই জোগাতে পারছেন না, তিনি অপারেশনের এই বিপুল অর্থ কী ভাবে জোগাড় করবেন? চিকিৎসকদের এমন পরামর্শের পর থেকে অসহায় এই বৃদ্ধা শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা।
জাহানারা বেগমের এই করুণ পরিস্থিতিতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দক্ষিণ রাঘবপুর ভাঙ্গি ভিটা গ্রামের বাসিন্দারা সমাজের বিত্তবান ও দানবীর মানুষদের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন। সকলের একটু সহানুভূতি আর সামান্য সাহায্যই পারে এই অসহায় মাকে পঙ্গুত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচাতে এবং তার মুখে একটুখানি হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলতে।