জয়পুরহাটের ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ঘোড়াঘাট থেকে গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি
বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ, অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে সাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. সাকিব হাসানকে (২১) দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘোড়াঘাট উপজেলার উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাকিব হাসান ঘোড়াঘাট থানার উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের নেহাজুল আলমের ছেলে।
এসআরবি জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে সাকিব হাসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাকিব ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ আগস্ট বিয়ের জন্য ওই নারী পরিবারের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে সাকিবের বাড়িতে গেলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। ওই নারী যেতে না চাইলে তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা সাকিবের বাড়িতে গেলে তাদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সাকিব ওই নারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে বিয়ের কথা জানান। পরে তার কথামতো ওই নারী তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাকিব আবারও শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এবং এসআরবি-৫-এর সিপিসি-৩, জয়পুরহাটের একটি যৌথ আভিযানিক দল বুধবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ঘোড়াঘাট থানার ভুলাকিপুর ইউনিয়নের উত্তর জয়দেবপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি সাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি আরও জানায়, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।