দেবীগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, ১২ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার মাহাবুল
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
পঞ্চগড় বিশেষ প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনা (৫০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাহাবুল হক (৩২) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় মাহিন্দ্র গাড়ির চালক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের ওপর এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় দেবীগঞ্জ থানা। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারের সার্বিক নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মাহাবুল হকের গতিবিধি ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।
পুলিশ জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে দেবীগঞ্জ থানার ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মাহাবুল হককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য দেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত হাসিনা মাহাবুলের প্রতিবেশী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার রাতে হাসিনার ফোন পেয়ে মাহাবুল ধানক্ষেতের আইলের কাছে যান। সেখানে অবস্থানের সময় হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে মাহাবুল পুলিশকে জানান। তাকে আইলের ওপর শোয়ানোর সময় ঘাড়ে আঘাত লাগার কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ করেন। পরে হাসিনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলেও পুলিশের কাছে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর নিহতের মোবাইল ফোন থেকে কিছু যোগাযোগের তথ্য মুছে ফেলা হয়। এরপর ফোনটি নিহতের পোশাকের মধ্যে রেখে মাহাবুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরবর্তীতে রাত ও সকালে তিনি আবার ঘটনাস্থলের আশপাশে গিয়েছিলেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাহাবুল হককে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ঘটনায় নিহত হাসিনা বেগমের ছেলে মো. হাচিনুর রহমান মিঠু বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিষয় বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ: বৈশ্বিক আস্থার সংকটে ঢাকার কূটনৈতিক অগ্রাধিকার কী?
মাটিকাটা নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন গোবিন্দল গ্রামের ওসমান কসাই বাড়ির নৌকা
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে আল-হাসানাহ্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কতৃর্ক আয়োজিত বিজ্ঞান উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত