ঝিনাইদহে বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের আলটিমেটাম

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:   

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে কালীগঞ্জে। একই উন্নয়ন প্রকল্পে যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পেলেও ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ করেছেন কালীগঞ্জের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে তারা ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার কালীগঞ্জে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক সম্প্রসারণের কারণে কালীগঞ্জ বাজারের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন। এসব ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পরিবারসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বৈধ ব্যবসা, নেই ক্ষতিপূরণ

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা বছরের পর বছর কালীগঞ্জ বাজারে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। নিয়মিত সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলেও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্ছেদের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের জমি ও স্থাপনার মালিকরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেলেও প্রকৃত ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের জীবিকা হারানোর বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পুঁজি, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘদিনের আয়ের পথ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবি করেন তারা।

যশোরে সুবিধা, ঝিনাইদহে কেন নয়?

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একই প্রকল্পে দুই জেলার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় পার্থক্য নিয়ে।

তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’-এর ৮(৩)(ক) ধারা অনুসরণ করে মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

 আবার -একই প্রকল্প, একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং একই আইনের আওতায় হলে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা কেন একই সুবিধা পাবেন না?

এ বিষয়ে তারা ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও এলএ শাখায় একাধিকবার আবেদন এবং শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তবে তাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

একই আইনের প্রয়োগে দুই জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এমন পার্থক্যের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত দাবি করেছেন। সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণ

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখা এবং পাওনা পরিশোধের আগে স্থাপনা অপসারণ না করা।

এ ছাড়া অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত মৌজা, দাগ, খতিয়ান ও নোটিশের তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

 তারা বলেন, তারা মহাসড়ক উন্নয়ন বা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নন। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনগত অধিকার ও জীবিকার সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

১৫ দিনের আলটিমেটাম

ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দেন তারা।

তাদের ভাষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

 ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, এলএ শাখা ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com