UNGA 81-এ আফ্রিকার কয়েকটি শীর্ষ রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত: নিউইয়র্কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিকল্প প্রতিনিধিরা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (UNGA 81) উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার পর ২৮ সেপ্টেম্বরও নির্ধারিত অধিবেশন রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। আফ্রিকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আফ্রিকার তিন বৃহৎ অর্থনীতি—নাইজেরিয়া, মিসর ও দক্ষিণ আফ্রিকা—এবার UNGA 81-এ প্রতিনিধিত্ব করছে, কিন্তু তাদের প্রেসিডেন্টরা ব্যক্তিগতভাবে নিউইয়র্কে উপস্থিত নেই বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর পরিবর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা প্রতিনিধিত্ব করছেন। মিসরের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে অংশ নিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা।
তবে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক অংশগ্রহণ কমে যাওয়া—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়াও সরকারপ্রধান ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দিতে পারেন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, UNGA 81-এর সাধারণ বিতর্কে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরছে।
আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের উদাহরণ রয়েছে। রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন এনসেঙ্গিয়ুমভা প্রেসিডেন্ট পল কাগামের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জুডিথ সুমিনওয়া। ক্যামেরুনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেজুন এমবেলা এমবেলা অতীতেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উগান্ডার ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের UNGA 80-এ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
এবারের সাধারণ পরিষদের রাজনৈতিক গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য। ৮১তম অধিবেশনের মূল থিম “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”—অর্থাৎ আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলা। জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি প্রস্তুতি, উন্নয়নের অধিকার এবং বর্ণবৈষম্যসহ একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আফ্রিকার জন্য এসব আলোচনার গুরুত্ব বহুমাত্রিক। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নয়ন অর্থায়ন, ঋণ, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন—এসব ইস্যুতে আফ্রিকার দেশগুলোর অবস্থান সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জীবন-জীবিকা রক্ষার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটির লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সহযোগিতা জোরদার করা এবং একটি কর্মমুখী রাজনৈতিক ঘোষণায় পৌঁছানো। আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে বিকল্প প্রতিনিধি পাঠানোর পেছনে বিভিন্ন দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা সময়সূচিগত কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু উপস্থিতির ধরন দেখে কোনো দেশের কূটনৈতিক গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং প্রতিনিধিদলটি কোন পর্যায়ের এবং তারা সাধারণ বিতর্কে কী অবস্থান তুলে ধরছেন—সেটিই সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক অংশগ্রহণ বোঝার জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক।
UNGA 81-এর উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ শেষ হলেও সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ২০২৬–২৭ মেয়াদজুড়ে চলবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্রশ্নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম প্রধান বহুপাক্ষিক মঞ্চ।
ফলে নিউইয়র্কে কে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত এবং কে প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশ নিচ্ছেন—এটি আন্তর্জাতিক সংবাদে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আফ্রিকার দেশগুলো এই মঞ্চে কী বার্তা দিচ্ছে, কোন ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের স্বার্থ কীভাবে তুলে ধরছে। ৮১তম সাধারণ পরিষদের বাকি আলোচনায় সেই কূটনৈতিক অবস্থানগুলো আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।