কুষ্টিয়ায় মামলার বাদী বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে থানায় নেওয়ার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলার বাদী ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকে বাড়ি থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নুরজাহান বেগমকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নুরজাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী জানান, তার মা সকালে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য বাড়িতে গিয়ে তাকে থানায় যেতে বলেন। পরে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, পুলিশ সদস্যরা নুরজাহান বেগমকে জানান, তিনি যে গুদাম পোড়ানোর মামলা করেছেন, সেটি নিয়ে ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন। তবে থানায় নেওয়ার পর তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নুরজাহান বেগমের বাড়ি ও একটি গুদামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নুরজাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই তার মাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
নুরজাহান বেগমের ছেলে রুহুল আমিন দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর তার বৃদ্ধ মাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি তখন একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযানে বাইরে ছিলেন। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, নুরজাহান বেগমকে থানায় নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলে তিনি জানান।