সামাজিক অপরাধ: শিকড়ে হাত না দিলে সংকট কাটবে না

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধের ওপর ভিত্তি করেই একসময় গড়ে উঠেছিল আমাদের সামাজিক কাঠামো। পরিবার ছিল সেই কাঠামোর প্রথম পাঠশালা, আর সমাজ ছিল তার বিস্তৃত পরিসর। আত্মীয়তা, প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, সামাজিক শিষ্টাচার এবং অলিখিত কিছু নিয়মকানুন মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করত। আইন সব জায়গায় পৌঁছানোর আগেই সমাজের বিবেক অনেক অনিয়মকে থামিয়ে দিত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই সামাজিক বলয় ক্রমেই দুর্বল হয়েছে। সৌহার্দ্যের জায়গা নিয়েছে স্বার্থপরতা, সহযোগিতার জায়গায় এসেছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, মমত্ববোধের জায়গায় উদাসীনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গায় ব্যক্তিস্বার্থ। লোভ, ঘৃণা, হিংসা ও প্রতিহিংসা মানবসমাজে নতুন কোনো প্রবৃত্তি নয়। এসব প্রবণতা বরাবরই ছিল। তবে একসময় পরিবার ও সমাজের অলিখিত কিছু নৈতিক বিধিনিষেধ—যাকে নৃতত্ত্বের ভাষায় ‘ট্যাবু’ বলা যায়—এসব প্রবৃত্তিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করত। সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কোনো আচরণ মানুষকে শুধু আইনের ভয়েই নয়, সামাজিক সম্মান হারানোর আশঙ্কাতেও বিরত রাখত।

আজ সেই সামাজিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বড় একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ফলে এমন অনেক বিষয়, যার সমাধান পরিবার, প্রতিবেশী, স্থানীয় নেতৃত্ব কিংবা সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও আমরা ক্রমেই রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে পারিবারিক কলহ, কিশোরদের বেপরোয়া আচরণ থেকে মাদকাসক্তি, নারী ও শিশু নির্যাতন থেকে প্রতিবেশী বিরোধ—সবকিছুর সমাধান যেন পুলিশ, আদালত ও প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সমাজের নিজস্ব প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হচ্ছে।

অথচ সমাজকে সক্রিয় অংশীদার না করে কোনো সমাজের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

 

অপরাধের আগে প্রতিরোধ

আইন অপরাধ সংঘটনের পর বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু অপরাধ সংঘটনের আগেই একজন মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার এবং দ্বিতীয়টি সমাজ।

একটি শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবার যদি তা বুঝতে পারে, বিদ্যালয় যদি তা পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতিবেশী ও স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তাহলে অনেক কিশোর অপরাধের সূচনাতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। একইভাবে পরিবারে সহিংসতার লক্ষণ, মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা কিংবা আচরণগত পরিবর্তনের প্রাথমিক সংকেতগুলো উপেক্ষা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বড় বিপর্যয় এড়ানো যায়।

কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যত কঠোর আইনই প্রয়োগ করুক, কেবল আইন দিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কারণ আইন অপরাধের পরিণতি নির্ধারণ করতে পারে; কিন্তু অপরাধপ্রবণতার সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো দূর করার দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয়।

সেখানেই প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক বলয়।

 

পরিবার থেকেই শুরু হোক প্রতিরোধ

সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে আমরা প্রায়ই উদ্বেগ প্রকাশ করি। কিন্তু সমাজ বিনির্মাণের প্রশ্নে নিজেদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের কথা খুব কমই বলি। অথচ পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর জায়গাটি আমাদের একেবারে কাছেই—পরিবার।

একটি শিশুর প্রথম শিক্ষক তার বাবা-মা। সে কীভাবে কথা বলবে, কীভাবে অন্যকে সম্মান করবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ কীভাবে করবে, দুর্বল মানুষের প্রতি কেমন আচরণ করবে—এসব শিক্ষা বইয়ের পাতার চেয়ে পারিবারিক পরিবেশ থেকেই বেশি শেখে।

তাই পরিবারে মূল্যবোধের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে। সন্তানকে শুধু ভালো ফলাফল, অর্থনৈতিক সাফল্য কিংবা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিলে হবে না; তাকে মানবিকতা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, সংযম, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার শিক্ষাও দিতে হবে।

সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী দেখছে এবং অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্টে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন। তবে নজরদারি যেন নিছক নিয়ন্ত্রণে পরিণত না হয়; সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও খোলামেলা যোগাযোগের পরিবেশও তৈরি করতে হবে।

 

সামাজিক বন্ধন দুর্বল হলে অপরাধ বাড়ে

অপরাধের পেছনে কোনো একক কারণ কাজ করে না। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের দুর্বলতা, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত লোভ, পারিবারিক বিরোধ, কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনলাইনের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা—এসব বিভিন্ন মাত্রায় অপরাধপ্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট।

একসময় প্রতিবেশীর বাড়ির সমস্যা নিজের সমস্যা হিসেবেই বিবেচিত হতো। এখন অনেক ক্ষেত্রেই পাশের বাড়িতে কী ঘটছে, সেটি জানার প্রয়োজনও মানুষ অনুভব করে না। পারিবারিক সংকট, কিশোরের বিপথগামিতা কিংবা প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ—এসবকে ‘ওদের ব্যক্তিগত ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

এই উদাসীনতা দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে আরও দুর্বল করে।

 

তুচ্ছ বিরোধ থেকে প্রাণহানি

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনা, আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধ, পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতার খবর সামনে আসছে। এসব ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জই নয়, সামাজিক সম্পর্কের ভাঙনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একটি সামান্য বিরোধ যখন কথোপকথন, পারিবারিক উদ্যোগ কিংবা সামাজিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান না হয়ে সংঘর্ষ কিংবা হত্যাকাণ্ডে গড়ায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—আমাদের সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা কোথায়?

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্যই অপরাধ দমন করবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনবে। বিচারব্যবস্থা তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু একটি বিরোধ কেন প্রথমেই সহিংসতায় রূপ নিল, সেটি প্রতিরোধের দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্বকেও নিতে হবে।

 

সামাজিক বিচার নয়, সামাজিক প্রতিরোধ

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—সামাজিক প্রতিরোধ বলতে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বোঝায় না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সামাজিক বিচারের নামে শাস্তি দেওয়া, অপমান করা, মারধর করা কিংবা আইনবহির্ভূত ব্যবস্থা নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সামাজিক বলয়ের কাজ হবে অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করা, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিতে থাকা শিশু-কিশোরদের পাশে দাঁড়ানো, মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক অবস্থান তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।

অর্থাৎ সমাজ হবে প্রতিরোধের প্রথম প্রাচীর; আর আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্বশীল স্তম্ভ।

 

আইনের শাসনই শেষ ভরসা

অপরাধ দমনে আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক ক্ষমতা কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব বিবেচনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো, তদন্তের মান উন্নত করা, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আইন প্রয়োগে বৈষম্য তৈরি হলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়। আর আইনের প্রতি আস্থা কমে গেলে মানুষ নিজেরাই প্রতিকার খুঁজতে শুরু করতে পারে, যা সমাজে আরও বড় অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবলও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কঠোরতা মানেই নির্বিচার ব্যবস্থা নয়। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং মানবাধিকারের কাঠামোর মধ্যে।

 

প্রভাবের অপব্যবহার বন্ধ হোক

অপরাধ দমনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়া। কোনো অপরাধী যদি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে আইনের আওতার বাইরে থাকার সুযোগ পায়, তাহলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়—সমাজের নৈতিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই অপরাধের সঙ্গে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। চাঁদাবাজি, দখল, মাদক, সন্ত্রাস কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধ—কোনোটিই রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে আশ্রয় পেতে পারে না।

অপরাধের ক্ষেত্রে পরিচয়ের চেয়ে আইনের শাসনই মুখ্য হওয়া উচিত।

 

সমাজকে আবার সমাজের দায়িত্ব নিতে হবে

আজ আমরা সামাজিক অবক্ষয়ের কথা বলি, কিন্তু সমাজ বিনির্মাণে নিজেদের দায়িত্ব কতটা পালন করছি, সে প্রশ্ন খুব কমই করি।

একজন শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষার্থীর আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, একজন অভিভাবক যদি সন্তানের বিপথগামিতা বুঝতে পারেন, একজন প্রতিবেশী যদি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দেখে নীরব না থাকেন, একজন স্থানীয় নেতা যদি কোনো বিরোধ সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই আলোচনার উদ্যোগ নেন, একজন তরুণ যদি বন্ধুকে মাদকের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন—তাহলে এসব ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন বড় সামাজিক প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।

সমাজের প্রতিটি মানুষকে সেই দায়িত্বের অংশীদার হতে হবে।

 

শিকড় শক্ত না হলে বৃক্ষ টেকে না

সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু থানায়, আদালতে কিংবা কারাগারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। অপরাধের শিকড় যদি পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মূল্যবোধের সংকট, মাদক, বেকারত্ব ও অসুস্থ সামাজিক প্রতিযোগিতার ভেতরে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে শুধু ডালপালা ছাঁটাই করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

শিকড়ে হাত দিতে হবে।

পরিবারকে শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে। মাদক ও অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে হবে।

রাষ্ট্র একা সমাজকে নিরাপদ করতে পারবে না। আবার রাষ্ট্রকে বাদ দিয়েও নিরাপদ সমাজ সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল অংশীদারত্ব।

কারণ একটি সুস্থ সমাজ কেবল ভালো আইন দিয়ে তৈরি হয় না; ভালো পরিবার, দায়িত্বশীল নাগরিক, নৈতিক নেতৃত্ব, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনের সম্মিলিত চর্চায় গড়ে ওঠে।

আমরা যদি সত্যিই সামাজিক অপরাধ কমাতে চাই, তাহলে অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। পরিবারকে সময় দিতে হবে, প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নিতে হবে এবং আইনকে নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনের পথেই প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মনে রাখতে হবে—সমাজের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে অনেক সময় লাগে না; কিন্তু তা পুনর্গঠনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ।

শিকড় মজবুত হলে বৃক্ষ ঝড়েও দাঁড়িয়ে থাকে। তেমনি পরিবার ও সমাজের নৈতিক ভিত শক্ত হলে অপরাধপ্রবণতার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক শাস্তির পর থেকে নয়, অপরাধের অনেক আগেই—পরিবার থেকে, সমাজ থেকে এবং আমাদের নিজেদের আচরণ থেকে।

লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com