এমপিও শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেল পেতে প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন নেই
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
পে-স্কেল বা বেতন স্কেল হলো সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন নির্ধারণের কাঠামো। কোন পদ কোন গ্রেডে থাকবে, সেই গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন কত হবে এবং চাকরির মেয়াদে বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে বাড়বে—এসব বিষয় এই কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে একজন সরকারি চাকরিজীবীর মোট বেতন নির্ধারিত হয়।
প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল বা জাতীয় বেতন কাঠামো গঠনের নিয়ম বা প্রচলন রয়েছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এটি সবসময় মানা হয় না।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি বেতন স্কেলের আওতায় এনেছিলেন। প্রথমে ৫০ শতাংশ সরকারি অংশ দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়, যা বিভিন্ন সরকারের সময়ে পর্যায়ক্রমে শতভাগে উন্নীত হয়েছে।
যখন নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়, তখনই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায় নতুন পে-স্কেলের সুবিধা তারা পাবেন কি না?
অনেক সময় দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কার্যকর হয়েছে, তার কয়েক মাস, এমনকি বছর পেরিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আনতে কোনো আন্দোলন করতে হয়নি।
অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সেদিন থেকেই তা পেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করা কিছু শিক্ষক সংগঠন বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার চেষ্টা করেছে যুগে যুগে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দেও তা দেখেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য পৃথক আদেশ জারি করতে হবে কেন? যুগ যুগ ধরে আমলারা সাংবাদিকদের বলে এসেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনুদান দেওয়া হয়। তাই তাদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি করতে হয়।
নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির পরও গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ে থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বলেছেন , এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেতে আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে না।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেলের গেজেট জারি হয়। গেজেটে ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখ উল্লেখ থাকলেও ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এটি হাতে পাওয়া যায়। গেজেটে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
প্রথম গ্রেডেের বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
একরামুল ইসলাম তুষার, সহকারী অধ্যাপক, আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।