জেল জরিমানায় কার্পণ্যতা প্রশাসনের

সোনারগাঁওয়ে ৯ মাসে ১১ বার অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানায় অভিযানের পরও থামেনি অবৈধ গ্যাস ব্যবহার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৪ এএম

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও প্রতিনিধি :

অবৈধভাবে গড়ে উঠা কারখানাগুলোতে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সহযোগিতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুনরায় অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া ও অভিযানের খবর আগেই প্রচার করে দেয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বলে অভিযোগ রয়েছে । গুড়িয়ে দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংযোগ একাধিকবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জের চলতি বছরের ০৪ জানুয়ারী উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় এসব অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। 

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ড্রিস্টিবিউশনের মেঘনা ঘাট অঞ্চলের ম্যানেজার সুরজিত সাহা, সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সায়মা রাইয়ান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছিলেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ড্রিস্টিবিউশনের মেঘনা ঘাট অঞ্চলের ম্যানেজার সুরজিত সাহা তখন জানান, সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় আবুল কাশেম মাস্টারের গড়ে তোলা ঢালাই কারখানা ও হারুন অর রশিদের ঢালাই কারখানা, সোনারগাঁ অর্থনীতি অঞ্চলের পাশের নোয়াব প্রধান ও এতিম খানার পাশে মতিউর রহমানের চুনা কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে যার ফলে এ চক্রটি প্রতিদিন ২৪ হাজার ঘনফুট অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছেন। ফলে প্রতিমাসে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরদিনই সংযোগ নিয়ে পুনরায় এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে ব্যবসা করে থাকেন। খবর পেয়ে এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভাট্টিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়। গ্যাস সংযোগ অভিযানকালে অবৈধ ব্যবসায়ীরা পলাতক থাকার কারনে তাদের জেল জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানকালে সাড়ে ৬শ ফুট পাইপ জব্দ করা হয়েছিলো। এ অবৈধ গ্যাস বিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে অবগত করেন । 

সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুযারী উপজেলার পিরোজপুর ও ঝাউচর এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে পরিচালিত ৫টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৩টি চুন কারখানার ৮টি ভাট্টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পিরোজপুরে একটি সচল ভাট্টি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে ফেলা হয় এবং বাকি ভাট্টিগুলো এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি ঝাউচরে ২টি অবৈধ ঢালাই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিতাস গ্যাসের তথ্যমতে, এ অভিযানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ঘনফুট অবৈধ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন সরকারের দুই লাখের বেশি টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে। এছাড়া বিভিন্ন গ্যাসের প্রায় ৩০ ফুট অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ ও জব্দ করা হয়েছে।

এর দেড়মাস পর ১৫ এপ্রিল উপজেলায় সাদিপুর ইউনিয়নের শিকদার বাড়ি এলাকায় একটি চুনা কারখানার স্থাপনা এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহার করে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং নয়াপুর এলাকায় আরেকটি চুনা কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

অবৈধ চুনা কারখানা, ঢালাই কারখানায় সরকারের কোটি কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে কিছু অসাধু অবৈধ কারবারিরা রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রঝায়ায় বারবার উচ্ছেদ অভিযানকে এক প্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাতে পারছে মোটা অংকের টাকা ও জেল জরিমানা না করার সুযোগে। 

মে মাসে দুইবার অভিযান পরিচালিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল এবং তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ জোনের ম্যানেজার প্রকৌশলী শবিউল আওয়াল ১১ তারিখ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরটেক এলাকায় চান অ্যান্ড সূর্য ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন কালভার্টের ভেতরে, মিরেরটেক বাজারের পশ্চিম পাশে, ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ গ্যাস লাইনের সোর্স পয়েন্ট ফিলিং করা হয় সে সময় সাদিপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে ২টি চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় দুই হাজার চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ২১ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল এর নেত্রত্বে তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ জোনের ম্যানেজার প্রকৌশলী শবিউল আওয়াল উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় নুরে মদিনা মসজিদ সংলগ্ন একটি, ইসলামপুর এলাকায় একটি এবং সোনাখালী এলাকায় বারডেম হাসপাতালের বিপরীত পাশে একটি চুনা কারখানায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ গ্যাস লাইনের সোর্স পয়েন্ট কিলিং করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, সোনারগাঁ এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যেখানে অবৈধ সংযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিন্তু তেমন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে মাসে মাসে এ অবিযানকে শুধুমাত্র লোক দেখানো বলে মন্তব্য করছেন বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায়।

পরের মাসে ২৬ জুন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এক অভিযানে ঝাউচর বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি, মেঘনা আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন সংলগ্ন একটি, স্থানীয় মসজিদ সংলগ্ন একটি, আব্দুল মোনেম সুগার মিলের বিপরীত পাশে প্রতাপেরচরে একটি এবং সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের বিপরীত পাশে একটি চুনা কারখানা উচ্ছেদ করা হয়।

একই মাসে ২৯ জুন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৪টি চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযানে টিপরদী এলাকায় এসিআই হেলথকেয়ারের বিপরীত ১টি, মল্লিকপাড়ায় ১টি, প্রতাপেরচরে ১টি এবং সল্ট এলাকার বিপরীত পাশে ১টিসহ মোট ৪টি অবৈধ চুনা কারখানা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) সুনিম সোহানা এবং তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট জোনের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশলী) সুরঞ্জিত।

অভিযান চলাকালে এক্সকাভেটর মেশিনের সাহায্যে কারখানাগুলোর স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে পানি স্প্রে করা হয়, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

১৯ জুলাই তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ১ হাজার ৩০০টি আবাসিক চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুইটি চুনা কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী, সাদিপুর, নয়াপুর ও পঞ্চমীঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে একটি চুনা কারখানা এক্সকেভেটর মেশিনের সাহায্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অপর একটি চুনা কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া ১ হাজার ৩০০টি আবাসিক চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নানাখী এলাকার কিংস কনফেকশনারিকে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই মাসের ২৮ তারিখ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সোনাখালী, মল্লিপাড়া ও অর্জুন্দী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার। অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং তিতাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনা কারখানা পরিচালনা করে আসছিল। এতে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। অভিযানে তিনটি চুনা কারখানার মোট ছয়টি ভাটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কারখানাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫০ ফুট পাইপ ও বার্নার জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।

 আগষ্ট মাসের শেষের দিকে (২৩ আগষ্ট) উপজেলার সোনাখালী,প্রতাবেরচর ও পিরোজপুর এলাকায় এ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল অভিযানের নেতৃত্ব দেন ।অভিযান শেষে তিতাস গ্যাস সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার সাহা জানান, একটি চক্র বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনা কারখানা স্থাপন করে আসছিল। এসব কারখানায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। চুনা কারখানাগুলোতে ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করা হতো। এর ফলে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে তিনটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে অবৈধ গ্যাস সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ, রাইজার ও বার্নার জব্দ করা হয়। পরে তিনটি চুনা কারখানার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখ পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অবৈধ চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোনাল বিক্রয় অফিস (মেঘনাঘাট)। অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা ৫টি চুনা ও ১টি ঢালাই কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিতাস সূত্র জানায়, সোনারগাঁওয়ের গোলাবাড়ি, পিরোজপুর, প্রতাপেরচর ও ঝাউচর এলাকার ৬টি স্পটে (৮টি পয়েন্টে) এই অভিযান চালানো হয়। এতে ৫ টি চুনা কারখানার ১২টি এবং ১ টি ঢালাই কারখানার ১টি অবৈধ ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১.৫ ইঞ্চি ২০ ফুট এমএস পাইপ এবং ১ ইঞ্চি প্রায় ৩০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।

তিতাসের হিসাব অনুযায়ী, এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করায় প্রতি ঘণ্টায় ২৫,৬০০ ঘনফুট হিসেবে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি গ্যাস চুরি বন্ধ ও সাশ্রয় হবে।

তিতাসের এই উদ্যোগ সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশংসনীয় হলেও অভিযানের নেপথ্যে উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ছবি। বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ভাট্টি ধ্বংস করা হলেও কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কারখানার মালিকদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় কোনো জেল বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি গ্যাস চুরি করে খোলা আকাশের নিচে এমন বিশাল ভাট্টি চালানো হলেও ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই সব মালিকের গা-ঢাকা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়েছিল কি না কিংবা এই কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরির সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানাগুলোর জমির মালিক ও পরিচালকদের তথ্য সংগ্রহ করে সোনারগাঁও থানায় মামলা ও এফআইআর করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা বা প্রচারমুখী উচ্ছেদে সীমাবদ্ধ থাকলে কয়েকদিন পর আবারও এসব অবৈধ ভাট্টি চালু হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। মূল অপরাধী ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের আবাসিক এলাকা ও জনবসতির আনাচে কানাচে গড়ে উঠা প্রায় ৫৬ টি চুনা কারখানা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন , সোনারগাঁও শাখার ব্যানারে অবৈধ চুনা কারখানায় সরকারী সম্পদ গ্যাস চোরাই লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ এসব কারখানা বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন। সংগঠনটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের নাম প্রকাশ্যে আসার পরও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চুনা কারখানার ধোঁয়া ও দূষণের কারণে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পাশাপাশি এসব কারখানার কারণে মাটি, পানি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধ এসব কারখানা পরিচালনার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তির মদদ রয়েছে। তিতাস গ্যাসের কিছু কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধন থেকে অবৈধ চুনা কারখানাগুলো দ্রুত বন্ধ, পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণ, জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করা হবে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নারায়নগঞ্জ ৩ আসনের এমপি আজহারূল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক সচিব খাইরূল ইসলাম সজিব ক্ষোভ অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানার সাথে জড়িতদের বিরুদ্বে উল্লেখযোগ্য অর্থদন্ড ও জেল জরিমানা না হওয়ায় বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান বর্তমানে দেশে যে পরিমানের গ্যাসের সংকট দেখা যাচ্ছে তাতে প্রতিটি সচেতন মহলকে আরো সোচ্চার হতে হবে। বিগত যে ক’টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে তাতে অর্থদন্ড ও জেল জরিমানার পরিমান কম হওয়ার ফলে গুড়িয়ে দেওয়া কারখানার মালিকরা বড় থেকে ছোট আকারে রাতের আধারে কাজ চালিয়ে দেশের গ্যাসের যে সংকট তৈরী করছে তার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠন সচেতন মহলসহ সকলকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

এরই ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট পত্রিকা ,অনলাইন ও ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ সহ এলাকার সচেতন মহলকে বেশ সোচ্চার হয়ে এসব অবৈধ চুনা কারখানা, ঢালাই কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ও অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগের ফলে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট সৃষ্টি রোধে বিভিন্ন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে।

 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com