বোদায় রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট, বাধা দেওয়ায় প্রকৌশলীকে হুমকির অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড় | ১ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলজিইডির কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বোদা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। পরে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে নিম্নমানের ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় রাস্তার দুই পাশের এজিংয়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান কর্মকর্তারা। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম। পরে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং উপস্থিত স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তারা নিজেদের ইচ্ছামতো রাস্তার কাজ করবেন। কেউ কাজে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোদা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শাহীনুর ইসলামের সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ শাহীনুর ইসলামকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৪০৬, ৪২০, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থলসংলগ্ন মো. মিনারুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ১০০টি নিম্নমানের ইট জব্দ করেন। জব্দ করা ইটের গায়ে ‘MMR2’ লেখা রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার এজিংয়ের কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।
এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে খারাপ আচরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সরকারি কাজে বাধা, অর্থ অপচয়, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।