তিগ্রাইয়ে তীব্র লড়াই, টিপিএলএফ কমান্ডার নিহতের দাবি ইথিওপীয় সেনাবাহিনীর

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার, ২ অক্টোবর ২০২৬: 

ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলে নতুন করে তীব্র সংঘাতের মধ্যে টিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে বর্ণিত কর্নেল তেনসায়ে বিরহানেকে হত্যার দাবি করেছে ইথিওপিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (ENDF)। তবে তাঁর নিহত হওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্যও এখনো পরিষ্কার নয়।

কর্নেল তেনসায়ে বিরহানে কীভাবে এবং কোথায় নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে ইথিওপীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবির বাইরে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাঁর মৃত্যুর খবরকে আপাতত সামরিক বাহিনীর দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ও চলাচল সীমিত থাকায় হতাহত এবং সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত প্রিটোরিয়া শান্তিচুক্তির পর আবারও তিগ্রাইয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী এবং TPLF-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা তিগ্রাইয়ের রাজধানী মেকেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং শহরটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

সংঘাত শুধু তিগ্রাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তিগ্রাই, আমহারা ও আফার অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী Critical Threats Project-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারি বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে আফারের কয়েকটি এলাকায় পাল্টা অগ্রসর হয়েছে এবং মেকেলের দিকে একাধিক পথে এগিয়েছে। একই সময়ে বিরোধী পক্ষও বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অবস্থান ধরে রাখার বা নতুন এলাকা দখলের দাবি করেছে।

মেকেলের পরিস্থিতিও দ্রুত বদলাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে Reuters জানিয়েছে, শহরের ব্যাংক ও দোকান বন্ধ হয়ে গেছে এবং যুদ্ধ এগিয়ে আসায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সময়ে তিগ্রাইয়ে বিমান চলাচল ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।

নতুন সংঘাতের রাজনৈতিক পটভূমিও জটিল। ২০২২ সালের প্রিটোরিয়া চুক্তি ইথিওপিয়ার দুই বছরের ভয়াবহ তিগ্রাই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে TPLF ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধ অব্যাহত থাকে। চলতি সংঘাতে TPLF-এর সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে জোটটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উত্তেজনাও যুক্ত হয়েছে। ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে TPLF-সহ বিরোধী শক্তিকে সহায়তার অভিযোগ তুলেছে। ইরিত্রিয়া অভিযোগটি অস্বীকার করেছে এবং ১ অক্টোবর ইথিওপিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। মিসর ও সুদানকেও বিরোধী পক্ষকে সহায়তার অভিযোগ করেছে আদ্দিস আবাবা; দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিসরকে সংযম দেখিয়ে কূটনৈতিক পথে বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

এরই মধ্যে আদ্দিস আবাবায় বিস্ফোরণের খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করলেও এর সবকিছু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানী ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সক্ষমতা তৈরি হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি আরও বাড়তে পারে।

কর্নেল তেনসায়ে বিরহানের নিহত হওয়ার দাবি সত্য হলে এটি চলমান সংঘাতে TPLF-সংশ্লিষ্ট সামরিক নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা, নিহত হওয়ার পরিস্থিতি এবং এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, তিগ্রাইয়ে ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির পর সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনাগুলোর একটি আবার তৈরি হয়েছে এবং মেকেলেকে ঘিরে লড়াই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com