মানিকগঞ্জে অনেকেই নকল হাজারী গুড় তৈরি করে এর সুনাম নষ্ট করছে
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | ২ অক্টোবর
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়ের চাহিদা বেড়েছে । তবে খেজুরগাছ ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না । এর সুযোগে বাজারে নকল হাজারী গুড় তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে । এতে ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা ।
বৃহস্পতিবার হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা মধ্যপাড়া হাজারী পাড়ায় গুড় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে । উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ।
গাছিরা জানান, হাজারী গুড় উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুরগাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে । একই সঙ্গে এ পেশায় যুক্ত পরিবারের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে । জ্বালানি সংকটও উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে । তাঁদের মতে, উৎপাদন বাড়াতে খেজুরগাছের চারা রোপণ, নতুন গাছি তৈরি এবং জ্বালানি সংকটের সমাধানে উদ্যোগ প্রয়োজন ।
গাছি আব্দুল করিম বলেন, “এখানে ৩৫টি পরিবার হাজারী গুড় তৈরির সঙ্গে জড়িত । দিন দিন এ সংখ্যা কমছে । গাছেরও ঘাটতি রয়েছে । গাছের সংখ্যা বাড়াতে হবে । জ্বালানি সংকটের কারণেও গুড়ের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ।”
নবীন গাছি সাব্বির খান বলেন, অন্য এলাকায় গিয়ে খেজুরগাছ কাটতে হয় । এ ছাড়া প্রভাবশালীরা গাছ থেকে রস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রয়োজন ।
গাছি মিজানুর রহমান বলেন, খেজুরগাছের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে গুড় তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে । একই সঙ্গে ভেজাল ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন ।
সভায় বক্তারা বলেন, জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারী গুড়ের পরিচিতি ও চাহিদা বেড়েছে । উৎপাদনকারী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন । একই সঙ্গে নকল ও ভেজাল হাজারী গুড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও গুণগত মান সংরক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে ।
তিনি বলেন, জিআই স্বীকৃতির পর হাজারী গুড়ের চাহিদা বেড়েছে । এ কারণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খেজুরগাছ রোপণ কর্মসূচি চলছে । স্থানীয়দের এসব গাছের পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে । জ্বালানি সংকট কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে ।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খায়রুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিজা বীসরাত হোসেন, হরিরামপুর থানার ওসি জে ও এম তৌফিকুল আজম, হাজারী পরিবারের সপ্তম বংশধর শফিকুল ইসলাম শামীম হাজারী, বাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, জেলা কৃষকদলের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম ভূঁইয়া তারেকসহ গাছিরা বক্তব্য দেন ।