বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, টমটম উল্টে নিহত ৩; আহত ৬
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি টমটম খাদে উল্টে গিয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার দোনা স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী একটি টমটম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে টমটমে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোরেলগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন না মানার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁদের অভিযোগ, অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
এদিকে দুর্ঘটনায় একসঙ্গে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, সীমিত জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে একসঙ্গে অনেক আহত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপের মধ্যে পড়তে হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা বা ওভারটেকিংয়ের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, মোরেলগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের লাইসেন্স যাচাই জোরদার করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।