যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: রাকিবুল হাসান 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও কানে রক্তক্ষরণের অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জুয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত তানভীর একই শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী।

জুয়েলের অভিযোগ, শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে গোসলখানায় কাপড় রাখাকে কেন্দ্র করে তানভীরের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তানভীর গোসলখানার দরজা জোরে ধাক্কা দেন, তাকে গালাগাল ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুয়েল জানান, পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে তানভীরের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন। এরপর একই শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্যের উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা হলের বাইরে একটি চায়ের দোকানের কাছে যান।

জুয়েল বলেন, “আমি বিষয়টি সমাধানের জন্যই সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর পেছন থেকে আমার কানে জোরে থাপ্পড় মারা হয়। এরপর আমার বাম কান বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাস্তার ওপর আমার বুকে লাথি মারা হলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপরের ঘটনা আমার মনে নেই।”

পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মন্ডল তার কানের পর্দা ছিদ্র হওয়া এবং কানের ভেতরে রক্তক্ষরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্টকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসার বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি যাচাই করা হবে।”

এ বিষয়ে শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মজনুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আমি জড়িত নই।”

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিভাগের চেয়ারম্যান এএইচএম শহরিয়ার বলেন, “আমি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে বিস্তারিত এখনো জানা হয়নি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com