গঙ্গাচড়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড, একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে তাঁদের মধ্যে দুই মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরজনের কাছ থেকে ৮০টি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন ।
রোববার (৪ অক্টোবর) গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিশামত শেরপুর মিয়াপাড়া ও বেতগাড়ী বাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক মো. তাহামুদার রহমানের নেতৃত্বে একটি দল প্রথমে কিশামত শেরপুর মিয়াপাড়ার কথিত মাদক ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি।
পরে অভিযানকারী দল বেতগাড়ী বাজারে মো. মিলনের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় দোকানের ভেতরে মিলন (৩৫), মো. আইনুল (৩৩) ও আকরাম (৩২) অবস্থান করছিলেন। তাঁদের আটক করে দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় মিলনের কাছ থেকে ৮০টি ইয়াবা, আইনুলের কাছ থেকে একটি এবং আকরামের কাছ থেকে একটি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পরে বিষয়টি গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনুল ও আকরামকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৯(১)(ক) ধারায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সেবনের অপরাধে একই আইনের ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধান/তফসিল অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ৮০টি ইয়াবাসহ আটক মো. মিলনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করে শান্ত করেন।
এলাকার সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সামছুল হক মুকুল মাস্টার বলেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি হুমকির মুখে পড়েছেন। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবন বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দাবি করেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।