চকলেট দেওয়ার কথা বলে ৪ বছরের শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, দুই ঘণ্টা পর হাসপাতালের বাথরুম থেকে উদ্ধার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ এএম
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সদর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চকলেট দেওয়ার কথা বলে চার বছরের এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে হাসপাতালের অষ্টম তলার একটি বাথরুম থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় লিটন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চার বছরের শিশুটি তার নানির সঙ্গে সার্জারি ওয়ার্ডে অবস্থান করছিল। এ সময় লিটন মিয়া নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন শিশুটির স্বজনরা। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা জবা রানী দাস হাসপাতালের তৃতীয় তলায় দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের বিষয়টি জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন। পিসি মো. গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এপিসি মো. উজ্জল হোসেন, আনসার সদস্য মো. সুজন মিয়া ও মো. শাকিল হক এ অনুসন্ধানে অংশ নেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানোর পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অষ্টম তলার একটি বাথরুম থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে লিটন মিয়াকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে দ্রুত তার মা জবারানী দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শিশুটির জ্ঞান ফিরলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিশুটির মা এবং আটক লিটন মিয়াকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে আনসার সদস্যরা জানান, তল্লাশির সময় আটক লিটন মিয়ার কাছ থেকে কিছু গাঁজা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দ করা এসব সামগ্রী কীভাবে ও কোন উদ্দেশ্যে তার কাছে ছিল, সে বিষয়ে আইনগত তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে দ্রুত শনাক্ত করে উদ্ধার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত তৎপর হয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার।
এ ঘটনায় পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিশুটিকে কীভাবে হাসপাতালের অষ্টম তলার বাথরুমে নেওয়া হলো এবং ঘটনার পেছনে আটক ব্যক্তির কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।