মীরসরাইয়ে জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের মায়ানীতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিরোধীয় জমিতে জবরদখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে এক পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে। এর একদিন পর অপর পক্ষও এসব অভিযোগকে ‘একপেশে ও সাজানো’ দাবি করে সংশ্লিষ্ট দলিল, আদালতের নথি, নামজারি, খতিয়ান, সালিশনামা ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে মীরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মধ্যম মায়ানি এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তাঁর পৈতৃক স্বত্ব ও দখলীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তিনি মোহাম্মদ হাসান ও তাঁর স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য সাজেদা আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধীয় জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলমান এবং আদালত ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম আরও অভিযোগ করেন, তাঁর প্রবাসী তিন ছেলে দেশে ফিরলে তাঁদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ হাসান পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে শুধু ‘জমি দখলের’ অভিযোগ হিসেবে দেখলে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস ও আইনি প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যাবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে ওই সম্পত্তি নিয়ে দানপত্র, ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি, দখল, সালিশ এবং একাধিক মামলা হয়েছে।
হাসানের দেওয়া লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের দিকে জাহাঙ্গীর বাবুল তাঁর মাকে বিয়ে করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তাঁর মায়ের নামে কিছু সম্পত্তি দানপত্র করা হয়। একই বছর জাহাঙ্গীর বাবুল জাহেদা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালের দিকে জাহেদা আক্তারের নামেও কিছু সম্পত্তি দানপত্র করা হয় বলে হাসানের দাবি।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০০২ সালে জাহাঙ্গীর বাবুল তাঁর মায়ের নামে কিছু সম্পত্তি এবং অবশিষ্ট অধিকাংশ সম্পত্তি জাহেদা আক্তারের নামে দানপত্র করে দেন। বর্তমানে ওই ২০০২ সালের দলিলকে জাল দাবি করে আদালতে মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান। ফলে দলিলটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া, দলিল লেখক, সাক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের দলিলের দলিল লেখক শাহ আলম বেন্টার এবং সাক্ষী হিসেবে সমাজের সর্দার হাজী মফিজ ও স্থানীয় শিক্ষক সুভাষ মাস্টার রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যও নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন।
২০১৫ সালের ঘটনা থেকে মামলার সূত্রপাত
হাসানের লিখিত বক্তব্যে ২০১৫ সালের একটি ঘটনাও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, তাঁর অনুপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর বাবুলের ছেলেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর মারধরের ঘটনা ঘটে এবং এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা করা হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির নিজামী বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন এবং জায়গা মাপঝোঁক করে সীমানা নির্ধারণের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।
হাসানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যান কবির নিজামী, সংশ্লিষ্ট মেম্বার সনজিত চক্রবর্তী ও আমিন জসিম জায়গা মাপতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
২০১৬ সালে সম্পত্তি নিয়ে মামলা হয় বলেও হাসান জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যে মামলাটির নম্বর ১৭৫/১৬। পরবর্তী সময়ে তাঁর মা নিজের নামে থাকা সম্পত্তি তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন বলে তিনি দাবি করেন।
২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য
হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের দিকে দুই ভাই তাঁদের মালিকানাধীন কিছু সম্পত্তি দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন এবং ক্রেতারা দলিল ও নামজারি সম্পন্ন করেন। পরে জাহাঙ্গীর বাবুল ২০০২ সালের দানপত্রকে জাল দাবি করে আদালতে মামলা করেন এবং ওই মামলায় নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়।
হাসানের দাবি, তখন তিনি নিজের অংশে ঘর নির্মাণ করছিলেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হয় এবং রড, সিমেন্ট, বালি, সেন্টারিংসহ নির্মাণসামগ্রীর কারণে পাঁচ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তবে ওই নিষেধাজ্ঞার আওতা, মামলার পক্ষভুক্ত ব্যক্তিরা এবং বিরোধীয় সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট দাগ-খতিয়ান আদালতের আদেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
২০২৪ সালের দলিল নিয়ে প্রশ্ন
হাসানের লিখিত বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর একটি হলো ২০২৪ সালের একটি রেজিস্ট্রি দলিল। তাঁর দাবি, ২০০২ সালের দানপত্রকে জাল দাবি করে জাহাঙ্গীর বাবুল যে মামলা করেছেন এবং যে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে, তা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১১ জুন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা আক্তার তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে প্রায় ১৪ শতক জমি রেজিস্ট্রি নেন।
হাসান দলিলটির নম্বর হিসেবে ২৭৬২/২৪ উল্লেখ করেছেন।
তাঁর প্রশ্ন, একই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলে পরবর্তী ওই দলিলের আইনগত অবস্থান কী—তা আদালতের আদেশ, দলিলের তফসিল, দাগ-খতিয়ান এবং রেজিস্ট্রি রেকর্ড মিলিয়ে দেখা দরকার।
২০২৫ সালের ফৌজদারি মামলাতেও বিরোধ
হাসানের দাবি, ২০২৫ সালের মার্চে তাঁর বিরুদ্ধে, তাঁর স্ত্রীকে দ্বিতীয় আসামি করে এবং জাহাঙ্গীর বাবুলের দুই ভাগ্নিসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে ফৌজদারি মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ১২০/২৫ বলে তিনি জানান।
তিনি দাবি করেন, মামলায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চের একটি ঘটনার সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকেই তিনি বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর অবস্থানের তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগে ২০২/২৫ নম্বরের আরেকটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ক্রেতাদের সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ
হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ভাইয়ের বিক্রি করা সম্পত্তির একটি অংশের ক্রেতা জাহাঙ্গীর বাবুলেরই এক ভাগ্নি। জায়গাটিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা দলিলপত্র দেখে ঘর নির্মাণের পরামর্শ দেন এবং তিনি সেখানে ঘর নির্মাণ করেন বলে হাসানের দাবি।
সম্প্রতি ‘রিনা’ নামে আরেক ক্রেতার জমিতেও ঘর নির্মাণের সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। পরে স্থানীয় সালিশকারীরা দলিলপত্র দেখে জায়গা মাপঝোঁক করে তাঁকে জমি বুঝিয়ে দেন বলে তাঁর দাবি।
আরও কয়েকজনের জমি নিয়ে অভিযোগ
হাসান তাঁর বক্তব্যে সিরাজ উদ্দিন খোকা ও ছালেহা বেগমের জমির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, তাঁরা প্রায় দুই যুগ আগে জাহাঙ্গীর বাবুলের কাছ থেকে জমি কিনে নামজারি করে বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের কাছে জমি বিক্রির আগেই ওই সম্পত্তির কিছু অংশ দুই স্ত্রীর নামে দানপত্র করা হয়েছিল—এমন অভিযোগে তাঁরা মামলা করেন বলে হাসান জানান।
এ বিষয়ে মামলার নথি, ক্রয় দলিল ও পূর্ববর্তী দানপত্রের তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সালিশনামা নিয়েও প্রশ্ন
হাসানের বক্তব্যে ২০২৩ সালের একটি সালিশনামার কথাও রয়েছে। তাঁর দাবি, জাহাঙ্গীর বাবুলকে একটি মামলায় জামিনে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে তাঁরা ১০ শতক জমি এবং তাঁর ছেলেদের নির্মিত ঘরের জন্য আরও জায়গা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে সালিশে নির্ধারিত সীমানা অমান্য করে তাঁদের অংশে ঘেরা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যান কবির নিজামী একাধিকবার সালিশ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান
বিরোধীয় সম্পত্তি সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হাসান।
তাঁর দেওয়া তালিকায় রয়েছেন চেয়ারম্যান কবির নিজামী, চেয়ারম্যান মুসা মিয়া, মীরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন, সাবেক মেম্বার সনজিত চক্রবর্তী, সামসুদ্দোহা, সমাজের সর্দার হাজী মফিজ এবং আমিন জসিম।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ বাঙালীর একটি জমির বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, মফিজ বাঙালী জাহাঙ্গীর বাবুলের কাছ থেকে রাস্তার কিছু অংশ দলিলের মাধ্যমে কিনেছেন; কিন্তু দীর্ঘ সময়েও জায়গাটি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইভাবে রাজিয়া সুলতানা নামের এক নারীর জমি ও দখল নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির দলিল-রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অনুসন্ধানের আহ্বান
হাসান নিজেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এনে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, হামলা, ভয়ভীতি বা জবরদখলের অভিযোগ থাকলে সেগুলোও অনুসন্ধান করা হোক।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কতটি মামলা করেছেন, মামলাগুলোর নম্বর কী এবং কী অভিযোগে সেগুলো করা হয়েছিল—এসব তথ্য আদালতের নথি থেকে যাচাই করা যেতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, শুধু তাঁর বক্তব্য প্রকাশ না করে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগও একই গুরুত্বে অনুসন্ধান করা উচিত।
‘সত্য যা, সেটিই উঠে আসুক’
দীর্ঘদিনের এ বিরোধে তিনি সংঘাত বা প্রতিশোধের পথে যেতে চান না বলে দাবি করেছেন হাসান। তাঁর বক্তব্য, দানপত্র, ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি, খতিয়ান, দখল, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, সালিশনামা এবং ফৌজদারি মামলার প্রতিটি বিষয় নথিপত্রের আলোকে যাচাই করা হোক।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সত্য হলে সেটিও প্রতিবেদনে আসুক। একইভাবে তাঁর অভিযোগের সত্যতা থাকলে সেটিও তথ্য-প্রমাণসহ প্রকাশ করা হোক।
এদিকে মীরসরাই থানার এসআই সাফিন সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয় সম্পর্কে বলেন, তিনি আদালতের আদেশ পেয়েছেন এবং নোটিশ জারি করে আদালতকে অবহিত করেছেন।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর নথিতে মিলতে পারে
দুই পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে বিরোধটির কেন্দ্রবিন্দুতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—২০০২ সালের দানপত্রের প্রকৃত আইনগত অবস্থান কী, ২০২২ সালের আদালতের নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট পরিধি কতটুকু, ২০২৪ সালের ১১ জুনের ২৭৬২/২৪ নম্বর দলিলটি কোন দাগ-খতিয়ানের জমি নিয়ে এবং তা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ছিল কি না, বিভিন্ন সময়ে সম্পাদিত দানপত্র ও বিক্রয় দলিলের মধ্যে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে, কার নামে কখন নামজারি হয়েছে এবং বর্তমানে কোন অংশ কার দখলে রয়েছে।
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট মূল দলিল, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড, খতিয়ান ও নামজারি নথি, আদালতের আরজি ও আদেশ, মামলার বর্তমান অবস্থা, সালিশনামা, আমিনের মাপঝোঁকের নথি এবং সরেজমিন দখল পরিস্থিতি পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে এসব নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা গেলে দীর্ঘদিনের বিরোধটির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির আইনগত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।