৪০০ বছরের ঐতিহ্য ঘেরা ক্ষেতলালে জমিদার বাড়ি দেবালয়
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
দেবালয় জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন স্বর্গীয় নীল মাধব দেব। আজ থেকে ৪০০ বছর আগের কথা ক্ষেতলালের খলিসাগাড়ি স্টেট তথা এই জমিদার ছিলেন কৃষ্ণা কান্ত দেব।
কৃষ্ণা কান্ত দেবের ছেলের নাম নীল মাধব দেব। নীল মাধব দেবের দুই সন্তান ইন্দু মাধব দেব আর সুধাংশু দেব। ইন্দু মাধব দেবের কোনো ছেলের নাম জানা যায়নি। ইন্দু মাধব দেবের এক পুত্র বধুর নাম গৌরী রানী দেব।
সেই হিসাবে নীল মাধব দেবের নাতি বৌ হলেন গৌরী রানী দেব। এই গৌরী রানী দেবের কোনো সন্তান নেই। এখন তিনি এই বাড়িতে থাকেন।
জমিদার কৃষ্ণ কান্ত নিজ বাড়িতে পূজা করতেন এবং বর্তমানে এখনো ওই বংশের প্রজন্ম পারিবারিক ভাবে দূর্গাপূজা সহ অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।
আমরা সাধারণ পঞ্চমী কিংবা ষষ্ঠী থেকে দূর্গাপূজার উৎসবের কথা শুনি কিন্তু এখানে টানা দশ দিন ধরে দূর্গাপূজা পালন করা হয় অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকে প্রতিপদ, দ্বিতীয়া তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী। এভাবে টানা দশ দিন।
পুত্রবধু গৌরী রানী দেব ১১৮ বছর পর এই মন্দির আবার পুনরায় সংস্কার করেন।
জমিদারি আমলে বিজয়া দশমীর দিন জমিদার বাড়ির সামনের খোলা মাঠে বসত বিরাট মেলা। মুড়ি, মুড়কির, বাতাসা, খাগড়াই, দই, চিড়া, গোল্লা, মাটির তৈজসপত্র পাওয়া যেত ।
চারশ বছরের সেই পুরোনো মেলা এখনো ক্ষেতলালের খলিসাগাড়িতে (হাসপাতাল সংলগ্ন) বসে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ মেলায় আসে আর দশমীর দিনে সকলের জন্য আহারের ব্যবস্থা করতেন তখনকার জমিদার বাবু ।
কৃষ্ণ কান্ত দেবের পরবর্তী বংশধরেরা ছিলেন পিতার মতোই উদারপন্থী মানুষ। তাদের মধ্যে রাধা চরণ দেব, হারাধন দেব, সুধাংশু দেব প্রত্যেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ।
আজকের যে ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনিক অফিস গুলো দাঁড়িয়ে আছে খলিসাগাড়ি স্টেটের দান করা সেই ভূমির উপর।
আরও পড়ুন
Scholarly Index-এর র্যাংকিংয়ে Library and Information Science বিষয়ে বিশ্বে ৯ম স্থানে নোবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক আতিকুজ্জামান
মতলবের নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন
দৌলতপুর সীমান্তে ভারতে পাচারের সময় সাড়ে ৯ টন সার উদ্ধার