হাসিনার প্রত্যর্পণে ভারতের ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ চায় ঢাকা, সময়সীমা দিচ্ছে না দিল্লি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার, ৫ অক্টোবর ২০২৬।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চেয়েছে ঢাকা। ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ আশা করে ভারত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে।
শামা ওবায়েদের বক্তব্যের এক দিন আগে, ৩ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট থাকায় এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামো ব্যবহার করা সম্ভব। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরানোর প্রক্রিয়া চুক্তির আওতায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঢাকা ভারতের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
অন্যদিকে দিল্লির বক্তব্যে এখন পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়াকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রত্যর্পণ বিষয়ে একটি ‘সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ’ আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আদালত সম্পৃক্ত থাকায় নির্বাহী পর্যায় থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা সম্ভব নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এর আগে জানিয়েছিল, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবরের আলোচনায় ত্রিবেদী আরও বলেন, ২০২৪ সালের পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সামনে সীমিত বিকল্প ছিল এবং তাঁর ভারতে আসার ঘটনাটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না।
এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মূল পার্থক্য এখন প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার গতি ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে। ঢাকা মনে করছে আইনি কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও প্রয়োজন। দিল্লি বলছে, বিষয়টি আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিক কোনো সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো সামনে আসেনি।
প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। সামনে ঢাকার নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভারতের আইনি পর্যালোচনাই প্রক্রিয়ার পরবর্তী গতি নির্ধারণ করবে। তবে বর্তমান বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রগতি চাইছে, আর ভারত নির্দিষ্ট সময়সীমা না দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষার অবস্থানেই রয়েছে।
আরও পড়ুন
Scholarly Index-এর র্যাংকিংয়ে Library and Information Science বিষয়ে বিশ্বে ৯ম স্থানে নোবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক আতিকুজ্জামান
মতলবের নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন
দৌলতপুর সীমান্তে ভারতে পাচারের সময় সাড়ে ৯ টন সার উদ্ধার