সাটুরিয়ায় আলোচিত মা-ছেলে হত্যা: দেবরের ১০ বছরের সাজা, রাষ্ট্রপক্ষের অসন্তোষ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি | ৬ অক্টোবর
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আলোচিত গৃহবধূ পারভীন আক্তার ও তাঁর ছয় বছরের ছেলে আব্দুল নূর হত্যা মামলায় পারভীনের দেবর সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত । একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে । তবে দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার পরিবর্তে ৩০৪ ধারায় সাজা দেওয়ায় রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ । আসামিপক্ষও উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছে । মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় দেন ।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে সাটুরিয়ার কাউন্নারা এলাকায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পারভীন (২৬) ও তাঁর ছেলে আব্দুল নূর (৬) নিহত হয় । পরদিন পারভীনের মা মজিরন বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাটুরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন ।
তদন্তে পারভীনের দেবর সোলাইমানের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে । পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় । মামলার নথি অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোলাইমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরতাজ আলম বাহার বলেন, মামলায় চিকিৎসক, জব্দ তালিকার সাক্ষী ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৩১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে । এসব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি ।
নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘৩০২ ধারার মামলাটি ৩০৪ ধারায় এনে সাজা দেওয়া হয়েছে । এই সাজায় রাষ্ট্রপক্ষ অসন্তুষ্ট । বাদীপক্ষও রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ড হলেও ৩০২ ধারায় সাজা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মামলায় নেই । তদন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে ।
তার দাবি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হিসেবে জব্দ করা চাকুটি ফল কাটার চাকু; এর লোহার অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ দশমিক ১ ইঞ্চি । চাকুটির মাথা ভাঙা ও ভি আকৃতির ছিল । সোলাইমানের জব্দ করা দুটি সোয়েটার ও একটি লুঙ্গিতে ডিএনএ পরীক্ষায় মানুষের রক্ত পাওয়া যায়নি এবং নিহতদের কাপড় থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গেও তাঁর ডিএনএর মিল মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি ।
আসামিপক্ষের আরও দাবি, ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। নিহতদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্যও যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি ।
মামলার শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পারভীনের সঙ্গে সোলাইমানের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল এবং মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর পারভীন তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এর জেরেই মা ও ছেলেকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে ।
রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী । একই সঙ্গে ৩০৪ ধারায় সাজা দেওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ ।
আরও পড়ুন
প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুকে ঘিরে পঞ্চগড়ে উত্তেজনা, বিদ্যালয়ে শিক্ষক অবরুদ্ধ
শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন পূজা উদযাপন ফ্রন্ট
হিলিতে কলেজ ছাত্র সিহাবের আলু-পরোটায় বাজিমাত