অস্ত্র ছিল না, তবুও মামলা’ কুষ্টিয়ায় ডিবির বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ।
কুষ্টিয়ায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিরুদ্ধে দুই যুবককে আটকের পর অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আটক দুই যুবকের মুক্তি এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের এমএ রাজ্জাক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রেপ্তার হওয়া মো. আব্দুল্লাহর স্ত্রী মিথিলা খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৬ অক্টোবর কুমারখালী উপজেলার শালঘর মধুয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৮) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার দুর্বাচারা গ্রামের রাহান আলীর ছেলে মো. আব্দুল্লাহকে (২৮) ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে দুটি পিস্তল ও ১৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হয়।
তবে পরিবারের দাবি, আটকের সময় আরিফ ও আব্দুল্লাহর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের আটক করা হলেও তখন পুলিশ কোনো অস্ত্র দেখাতে পারেনি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মিথিলা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, দুর্বাচারা গ্রামের জাহাঙ্গীর কবির লিটন ও দরবেশপুর গ্রামের টাইগার মামুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তাদের ইন্ধনেই ডিবি পুলিশ দিয়ে আরিফ ও আব্দুল্লাহকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অতীতে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তারা জামিনে থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আরিফ ও আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা নির্দোষ হলে অবিলম্বে মুক্তি এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ ও আব্দুল্লাহর পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।