দৌলতপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন হয়রানির চেষ্টা, প্রিন্সিপালকে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | বাংলাদেশ বার্তা টুডে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মারাকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগকারী মাদ্রাসাছাত্র ফরহাদ (১৩) উপজেলার মালিথাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মিঠু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষার্থী বিষয়টি তার বাবাকে জানালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে ঘিরে রাখেন।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় স্থানীয় কয়েকজন এতে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষুব্ধ কয়েকজন অভিযুক্তকে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে ওসি খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও তাদের আঘাতের ধরন তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন, অভিযুক্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে আগের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীর বাবা মিঠু বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যে আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে বিস্তারিত জানায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি যশোর জেলার বাসিন্দা। মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের সত্যতা, সংঘর্ষে আহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com