রোহিঙ্গা সংকট আর শুধু মানবিক নয়: নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ে ঢাকার নতুন সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার:
ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬ — বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন মানবিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিতেও পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং প্রত্যাবাসনের অনুপযোগী পরিস্থিতির মধ্যে ৬ অক্টোবর ঢাকায় ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ সংকটটির নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে।
বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় ধরে শিবিরে অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, শিবিরগুলোতে হত্যা, অপহরণ, হামলা, চাঁদাবাজি ও সংগঠিত অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাত অব্যাহত থাকায় সীমান্তের ওপার থেকেও নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সংকটের আরেকটি দিক হলো অনিয়মিত অভিবাসন। শিবিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা এবং মিয়ানমারে ফেরার নিরাপদ পরিবেশ না থাকায় কিছু রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট এখন কক্সবাজারের শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বঙ্গোপসাগর ও আঞ্চলিক অভিবাসন ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
তবে সংকটের স্থায়ী সমাধানের কেন্দ্র এখনো মিয়ানমারেই। UNHCR-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে এখনো এমন নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়নি, যাতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য তাই একই সঙ্গে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—শরণার্থী শিবির ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতিও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি ও সুরক্ষাসহ মৌলিক সেবা চালু রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। অর্থায়ন কমে গেলে শিবিরের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিও আরও জটিল হতে পারে।
ফলে ঢাকার নতুন বার্তার মূল বিষয় হলো—রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার সমস্যা হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। মিয়ানমারের সংঘাত, সীমান্ত নিরাপত্তা, শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক অভিবাসন—সবগুলো বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যাবাসনের রাজনৈতিক সমাধান এগিয়ে নিতে হবে। ৭ অক্টোবর কক্সবাজারে ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফরও এই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।