লামায় অপপ্রচারের প্রতিবাদ, পিংখুনী মার্মার জমির ওয়ারিশ সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
তোফাজ্জল হোসাইন লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে জমির ওয়ারিশ সনদ ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম এবং ২৯৪ নম্বর দরদরী মৌজার হেডম্যান মংছাইন থুই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পিংখুনী মার্মা জমির ওয়ারিশ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে আবেদন করলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ওই আবেদনের পক্ষে বৈধ ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃতপক্ষে অজগাই মার্মার আসল ও বৈধ ওয়ারিশগণ বর্তমানে আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা। তাঁরা বহু বছর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সনদ ও ওয়ারিশ সনদ নিয়ে জমিটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বৈধভাবে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে বায়নানামা ও রেজিস্ট্রি দলিলের ভিত্তিতে ক্রেতারা সেখানে বসবাস করছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবার বসবাস করছে। পাশাপাশি সেখানে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, হাসপাতাল ও কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়ে পিংখুনি মার্মা রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটান বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈন উদ্দিনের উদ্যোগে বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, ২৯৪ নম্বর দরদরী মৌজার হেডম্যান মংছাইন থুই, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পিংখুনী মার্মাও শুনানিতে অংশ নেন। তবে সেখানে তিনি অজগাই মার্মার বৈধ ওয়ারিশ-সংক্রান্ত কোনো নথি বা দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ইউএনও দরদরী মৌজার হেডম্যান মংছাইন থুইকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করার নির্দেশ দেন। হেডম্যান বিস্তারিত তদন্ত করে পিংখুনী মার্মার দাবির পক্ষে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ার কথা জানান। এরপর রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম ও হেডম্যান মংছাইন থুই যৌথভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পিংখুনী মার্মা ও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম এবং হেডম্যান মংছাইন থুইয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ২৯৪ নম্বর দরদরী মৌজার হেডম্যান মংছাইন থুই বলেন, “আমরা কোনো অবস্থাতেই বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে ওয়ারিশ সনদ দিতে পারি না। সরেজমিনে ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্তে দেখা গেছে, পিংখুনী মার্মা তাঁর দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।”
রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম বলেন, “পিংখুনী মার্মার আবেদনের বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের বৈধতা বা সত্যতা পাইনি। ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু সনদ দেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে সনদ না দেওয়ায় পিংখুনি মার্মা ও তাঁর লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অবিরত মানহানি করছেন। আমি এ ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অপপ্রচার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।