নওগাঁয় ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৬

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি আইফোনসহ ৭টি মোবাইল ফোন এবং লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাণীনগর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের আবাদপুকুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার মালিক ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে অফিসে ফিরছিলেন ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাণীনগর উপজেলার পারইল বাজার পেরিয়ে বাংলালিংক টাওয়ার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে ক্যাশিয়ার নাজমুল আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দলকে ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার দিন রাতেই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলটির মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর ডিবি পুলিশের বিশেষ দল জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালায়। পরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বপন (২৮) ও হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামে। তাঁদের হেফাজত থেকে লুট হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের নিকট থেকে তথ্যের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর রাণীনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার আরও তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন—অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), লোন কর্মকর্তা সুজন (২৭) ও লোন কর্মকর্তা আবু তালেব (২২)। রাসেল বাবুর বাড়ি অলংকারদীঘি গ্রামে, সুজনের বাড়িও অলংকারদীঘি গ্রামে এবং আবু তালেবের বাড়ি সিমলাদার গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যাংককর্মী রাসেল বাবু, সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস ধরে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারান। পরে তাঁরা বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একপর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বপন, হাসানসহ আরও কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে টাকা আনতে যান। ফেরার পথে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিয়ম

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com