প্রণোদনা প্যাকেজের পর এক মাসে ১০০টির বেশি চুক্তি, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে, চট্টগ্রামে জনপ্রিয় নেট মিটারিং

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ হাসান :

চট্টগ্রামে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ‘নেট মিটারিং’ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। সরকারের বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর গত এক মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দক্ষিণাঞ্চলের আওতাধীন এলাকায় ১০০টির বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

নেট মিটারিংয়ের আওতায় গ্রাহকেরা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। এতে বিদ্যুৎ বিল কমার পাশাপাশি গ্রিডের ওপর চাপও হ্রাস পায়।

গত ১ সেপ্টেম্বর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার কথা রয়েছে। এ সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

 

ফৌজদারহাটে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম নগরসংলগ্ন ফৌজদারহাটে পাঁচটি বড় প্রতিষ্ঠান নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিএইচপি শিপইয়ার্ড, প্যাসিফিক রিসাইকেল, বিএম কনটেইনার ডিপো, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং কেডিএস লজিস্টিকস।

ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন পূর্বকোণকে জানান, নেট মিটারিং চালুর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল অন্তত ২০ শতাংশ কমেছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মূল্য মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

একই ধরনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে কোরিয়ান ইপিজেডে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নেট মিটারিং চালুর আগে প্রতিষ্ঠানটির মাসিক বিদ্যুৎ বিল ছিল চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা। বর্তমানে তা কমে প্রায় এক কোটি টাকায় নেমেছে।

 

দিনে ৫০ মেগাওয়াট চাহিদা কমার দাবি

পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার পর সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গ্রাহকদের আগ্রহ বেড়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমছে। বর্তমানে এ ব্যবস্থার কারণে দিনে অন্তত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে বলে জানান তিনি।

সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

 

সম্ভাবনাময় বিকল্প সৌরবিদ্যুৎ

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে গ্রাহকের ব্যয় কমার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে।

তবে এ ব্যবস্থার সুফল ধরে রাখতে সহজ সংযোগপ্রক্রিয়া, মানসম্মত সরঞ্জাম, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুতের মূল্য ও বিল সমন্বয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কার্যকর নীতিসহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে নেট মিটারিং দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com