প্রতিকেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা দরে

খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত রংপুর অঞ্চলের গরু খামারীরা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট:

খড়ের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ায় চিহ্নিত হয়ে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের গরু পালনকারী চাষিরা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী গ্রাম ও চরাঞ্চলের চাষিরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। আমন ধান কাটার পর নতুন খড় পাবেন কৃষকরা। তখন ঘড়ের দাম কমবে। এজন্য আরো একমাস সময় লাগবে। বর্তমান সময়ে নদী তীরবর্তী গ্রাম ও চরাঞ্চল এলাকায় কোন জমিই পরিত্যক্ত রাখা হচ্ছে না। সব জমিতেই সারাবছরই কোন কোন ফসল চাষ করা হচ্ছে। এ কারনে আগের মতো ঘাসের জমি মিরছে না। এ কারনে কৃষকদের গরু পালন করতে খড় ও নানা ধরনের গো খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

কৃষককেরা জানান, বাজারে খৈল, ভুষিসহ নানা ধরনের গো খাদ্যের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারনে খড়ের দামও বেড়েছে। গেল বছর এই সময়ে প্রতিকেজি খড় কিনেছিলেন ১০-১২ কেজি দরে। বর্তমানে প্রতিকেজি খড় কিনতে হচ্ছে ২০-২৫টাকা দরে। একমাস আগেও প্রতিকেজি খড় কিনেছে ১৫-১৮ টাকা দরে। প্রতিনিয়ত খড়ের দাম বাড়ছেই। প্রতিদিন একটি গরুর জন্য ৩-৫ কেজি খড় লাগে। খড় হলো গরুর উৎকৃষ্ট খাবার। এছাড়া দুধেল গাভীর জন্য খড় অত্যাবশ্যক। দুধেল গাভীকে খড় খাওয়ালে দুধের উৎপাদন বাড়ে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই উত্তর পাড়া এলাকার কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, তার ৭ টি গরু রয়েছে। এসব গরুকে খাওয়ানোর জন্য জানুয়ারী মাসে তিনি প্রায় দশ হাজার কেজি খড় স্টক করেছিলেন। থড়েরর স্টক শেষ হওয়ায় তাকে খড় কিনতে হচ্ছে। বাজারে খড়ের দাম বেশি হওয়ায় তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে অন্যন্য গো খাদ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে। বেশি দরে গো খাদ্য কিনে গরু পালন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। খড় হলো গরুর উৎকৃষ্ট খাদ্য। বাজারে খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালন করতে তাদেরকে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীর বুকে চর কালমাটির কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, বাজারে গো খাদ্য বিশেষ করে খড়ের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় গেল সপ্তাহে তার ৮টি গরুর মধ্যে ৩টি গরু বিক্রি করেছেন। এলাকা্য় গো খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আমন ধান কাটার পর পর্যাপ্ত পরিমানে খড়ের যোগান পাওয়া যাবে। এজন্য আরো একমাস অপেক্ষা করতে হবে। ’এখন গরু পালন নির্ভর করছে কেনা গো খাদ্যের ওপর। এতে গরু পালনে খরচও বেড়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হাটে খড় ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, ধান কাটার মৌসুমের সময় তারা বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিকেজি খড় ৮-১০টাকা কেজি দরে কিনে স্টক করেন। পরে তা বাজারে বিক্রি করেন। খড় পরিবহনে খরচও বেড়েছে। এবছর খড়ের স্টক কমেছে কিন্তু বাজারে খড়ের চাহিদা বেড়েছে অনেক। প্রতিকেজি খড় ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। “খড়ের চেয়ে বাজারে অন্য গো খাদ্যের দাম আরো বেশি। খড় হছ্ছে গরুর উৎকৃষ্ট খাবার। বিশেষ করে দুধেল গাভীর জন্য খড়ের প্রয়োজন বেশি।

তিনি জানান, আমন ধান কাটার পর খড়ের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমবে। তবে এবছর প্রতিকেজি খড়েরর দাম ১৫ টাকার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই।’

কালীগঞ্জের কাকিনার খড় ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, গরুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খড়ের চাহিদাও বেড়েছে। আগের তুলনায় খড় বিক্রি বেড়েছে। “আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকদের কাছ থেকে খড় কিনে তা সামান্য লাভে বিক্রি করি। তবে অনেক খড় ব্যবসায়ী ধানের মৌসুমে কমদামে খড় কিনে স্টক করেন এবং তা বেশি দরে বিক্রি করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, প্রতি শতাংশ জমি থেকে খড় পাওয়া যায় ১০-১২ কেজি। প্রতিবছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় খড় উৎপন্ন হয় প্রায় ৩৫-৪০ লাখ মেট্রিক টন। কৃষকেরা জমিতে উৎপাদিত খড়ের কিছুটা বাড়িতে স্টক করে রাখেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য। বাড়তি খড় বিক্রি করে দেন। 

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, রংপুর অঞ্চলর ৫ জেলায় গরু রয়েছে প্রায় ৪২ লাখ। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, গঙ্গাধর, দুধকুমার, জিনজিরামসহ বিভিন্ন নদ-নদীর ৮০০টি চরে রয়েছে ১৫-১৬ লাখ গরু। চরাঞ্চলে গরু পালন চরের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। 

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কৃষকেরা ধানের চেয়ে খড়ের বেশি কদর করছেন। তারা ধানের মৌসুমে খড় স্টক করে রাখেন। স্টক মেষ হয়ে গেলে তাদেরকে বাজার থেকে খড় কিনতে হবে। যে সকল গরু পালনকারী পরিবারের চাষাবাদ নেই তাদেরকে সারাবছরই গো খাদ্য কিনতে হয়। ‘আগে কৃষকেরা জমি ফেলে রাখতেন। কিন্তু এখন সবসময় ফসলের চাষ করেন। এ কারনে আগের মতো ঘাসের জমি চোখে পড়ে না। গরু পালন নির্ভর করছে কেনা গো খাদ্যের ওপর,’ তিনি বলেন। 

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল হাই সরকার জানান, আগের জচেয়ে গরু পালন বেড়েছে। গো খাদ্য কিনে গরু পালন করেও কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। তবে সম্প্রতি সময়ে কড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। খড়েরর দাম সাময়িক বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর খড়ের দাম কমে যাবে। ‘এখন শহরের অনেক পরিবার গরু পালন করছে। তাদেরকে সারাবছরই কেনা গো খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে গ্রামের কৃষকেরা বছরের অনেক সময় প্রাকৃতিক ঘাস সংগ্রহ করে গরুকে খাওয়াতে পারছেন।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com