পাঁচ দিন পর চট্টগ্রামে মিলল লামার নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রী, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
তোফাজ্জল হোসাইন, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিমপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকা থেকে তিন স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাতে পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এদিকে নিখোঁজ ছাত্রীদের সন্ধান দিতে একটি ভিডিও পাঠিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও উঠেছে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তারা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করলে জানতে পারে, তিন ছাত্রীর সর্বশেষ অবস্থান ছিল পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলায়। এর মধ্যে বুধবার দুপুরে একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে বস্তাবন্দী মানুষের অবয়ব নড়াচড়া করার একটি ভিডিও পাঠিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
একসঙ্গে তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের আরেকটি বাসা থেকে তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত করে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তারা গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবস্থান করছিল। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।