গানকে বুকে রেখে পড়াশোনায় মনোযোগ: হাবিপ্রবির স্নেহার গল্প
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক, টেলিভিশনের সংগীতবিষয়ক প্রতিযোগিতায় সাফল্য, এমনকি ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বেও অংশগ্রহণ—বহুমুখী প্রতিভায় নিজের পরিচয় গড়েছেন গীতাঞ্জলি ঘোষ স্নেহা। তবে এত অর্জনের পরও তাঁর কাছে পড়াশোনাই প্রথম অগ্রাধিকার। স্নেহার ভাষায়, “গান আমার আত্মা ও পরিচয়ের অংশ, কিন্তু দিনশেষে পড়াশোনাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার।”
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী স্নেহা ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মধ্যেও পড়াশোনা ও সংগীতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
২০০৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া স্নেহার সংগীতচর্চার প্রথম অনুপ্রেরণা তাঁর মা নমিতা ঘোষ। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা মায়ের কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি তাঁর। পরে সপ্তম শ্রেণিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীত শেখা শুরু করেন।
স্নেহা বলেন, “মায়ের শিক্ষা আর বাবার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আমার সঙ্গে ছুটে চলা—পরিবারের এই অবদানই আজকের আমি। গান ছাড়া নিজেকে চিন্তা করতে পারি না। তবে গান দিয়ে জীবন পরিচালিত হবে না বুঝে পড়াশোনাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
মেয়ে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিলেও সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন রয়েছে বাবা গৌতম কুমার ঘোষ ও মা নমিতা ঘোষের। তাঁদের সহযোগিতা স্নেহার এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন স্নেহা। ২০১৮ সালে শুদ্ধস্বরে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পরের বছর শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় দেশাত্মবোধক গানে জেতেন রৌপ্যপদক।
নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, উচ্চাঙ্গসংগীত ও আধুনিক গানেও বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। গ্রিন ভয়েস ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
২০২২ সালে আরটিভির সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সুফিয়ানা’য় দ্বিতীয় রানারআপ হন স্নেহা। এর আগে ২০২০ সালে এটিএন মিডিয়া পরিচালিত আট দেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘আগামীর তারকা’ প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছান তিনি। এ ছাড়া ছায়ানটে নজরুলসংগীত রেকর্ডিং এবং বিভিন্ন জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি অনুষ্ঠানেও সংগীত পরিবেশন করেছেন।
স্নেহার প্রতিভা শুধু সংগীতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানের প্রতিও রয়েছে তাঁর আগ্রহ। ২০২০ সালে ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডের থিয়েটার রাউন্ডেও অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরও সংগীতচর্চা থেকে দূরে সরে যাননি স্নেহা। পড়াশোনার পাশাপাশি হাবিপ্রবির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। কৃষি অনুষদের ‘কৃষি-কথন’, বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং সেজুতি সাংস্কৃতিক ঐক্যের ‘প্রলয়-উল্লাস’ আয়োজনে তাঁর সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের নজর কেড়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্নেহা বলেন, “সংগীত আমার কাছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা। তবে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনায় সাফল্য অর্জন করাই আমার মূল লক্ষ্য। গানকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।”
সাফল্যের নানা সিঁড়ি পেরিয়েও স্নেহার লক্ষ্য তাই স্পষ্ট—সংগীত থাকবে হৃদয়ে, আর পড়াশোনা এগিয়ে নেবে ভবিষ্যতের পথচলা।