দেবীগঞ্জে ১১৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা ও আনসার মোতায়েন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ১৫ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন, পুলিশি টহল ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার দেবীগঞ্জের ১১৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে এসব মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি হয়েছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কাজ শেষ করার পাশাপাশি মণ্ডপগুলো দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আনসার সদস্য মোতায়েন, পুলিশি টহল এবং স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মূসা বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল, ডিবি, এনএসআই, সাদাপোশাকের পুলিশ ও থানা-পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি মণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ মণ্ডপগুলোতে ছয়জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন। প্রতিটি মণ্ডপে ১০ থেকে ১৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে একটি পর্যবেক্ষণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রস্তুতি প্রায় শেষ, উৎসব ঘিরে প্রত্যাশা
উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিশ রায় বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় সব মণ্ডপেই ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মা দুর্গার আগমন পৃথিবীর সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী তিথির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও উৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
সব মিলিয়ে দেবীগঞ্জে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, পুলিশ, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। উৎসবের দিনগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।