সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউয়ের লোভ, বিপন্ন মানুষ-হাতির সহাবস্থান

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

তৌহিদুর রহমান, ঝিনাইগাতি, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী,নালিতাবাড়ী,শ্রীবরদী উপজেলার সিমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ে খাবারের খোঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির পাল। তবে এসব হাতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। ভাইরাল হওয়ার আশায় ভিডিও ধারণ করতে উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং কৌতূহলী মানুষের ভিড় ও বিরক্তিকর আচরণে ব্যাহত হচ্ছে হাতির স্বাভাবিক চলাচল। এতে বন্যহাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাড়ছে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ভিউ পাওয়া ও কনটেন্ট ভাইরাল করার প্রতিযোগিতায় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বন্যহাতির পেছনে ছুটছেন এবং অন্যদেরও হাতির কাছাকাছি যেতে উৎসাহিত করছেন। হাতির একেবারে কাছে গিয়ে পটকা ফাটানো, ঢিল ছোড়া কিংবা বিভিন্ন ধরনের শব্দ করে প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও ঘটছে। পরে হাতির ভয় পাওয়া কিংবা উত্তেজিত হয়ে ওঠার দৃশ্য ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। স্থানীয়দের মতে, বন্যহাতিকে এভাবে বিরক্ত ও উত্তেজিত করার ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এতে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ার পাশাপাশি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। একপর্যায়ে হাতির উপদ্রব ও সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এসবি তানভীর আহমেদ বলেন, বন্যহাতির খুব কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ, পাথর নিক্ষেপ কিংবা অন্য কোনোভাবে হাতিকে উত্ত্যক্ত ও উসকানি দেওয়া থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরত থাকতে নিয়মিতভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। এরপরও কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যহাতির কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতি ও মানুষের সংঘাতে ৩৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে মারা গেছে ৩৩টি বন্যহাতি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভিউ বাড়ানো ও কনটেন্ট ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে হাতির কাছাকাছি গিয়ে ভিডিও ধারণ এবং প্রাণীগুলোকে উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষ ও বন্যহাতির মধ্যে সংঘাত কমিয়ে আনতে প্রশাসন ও বন বিভাগের সমন্বিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com