সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকায় সংঘাতের বিস্তার: বাস্তুচ্যুতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬।
হর্ন অব আফ্রিকায় সংঘাতের তীব্র বিস্তার: সুদান সংকটে কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত, হুমকিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা
সুদানে সশস্ত্র বাহিনী (SAF) ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রতিবেশী সীমান্ত পেরিয়ে সমগ্র হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় এক অভূতপূর্ব মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এই সহিংসতার জেরে এ পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তপাড় বাস্তুচ্যুতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিদিনের ভয়াবহ সংঘর্ষ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং খাদ্য ও চিকিৎসার তীব্র সংকটের কারণে সুদান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার শরণার্থী সীমান্ত অতিক্রম করে চাঁদ, দক্ষিণ সুদান, মিশর ও ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটির অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী এখন মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে। সংঘাতের বিস্তার শুধু Sudan-এর ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; লোহিত সাগর ও সংলগ্ন কৌশলগত জলসীমায় এর প্রভাব পড়ায় বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তাও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন যে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মধ্যস্থতা ছাড়া এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব। রাষ্ট্রসংঘের প্রধান মানবিক সমন্বয়কারী এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, "যদি অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অর্জিত না হয় এবং ত্রাণের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা না যায়, তবে হর্ন অব আফ্রিকা একটি দীর্ঘমেয়াদি অনাহার ও নৈরাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে, যার মাশুল দিতে হবে সম্পূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা পর্যন্ত।"
এই চলমান বহুমুখী সংকটের ফলে কেবল সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকাই ধ্বংস হচ্ছে না, বরং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সার্বিক রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত না হয় এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহ বৃদ্ধি না পায়, তবে এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী নতুন এক শরণার্থী প্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেবে।