গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন যাত্রায় নিশ্চুপ মানবিকতা

বেঁচে থাকার আসল সংগ্রাম : যেখানে গনিত হেরে যায়!

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেশিনের সুইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে যিনি তৈরি করেন নামিদামি ব্রান্ডের পোশাক, তার নিজের গায়ে অনেক সময় জোটে তালি দেওয়া কাপড়। তিনি পোশাক শ্রমিক। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বে ও একজন সাধারন শ্রমিকের ভাগ্যে জোটে মাত্র বারো হাজার পাঁচশত টাকা। একবার চোখ বন্ধ করে নিজেকে যদি একজন শ্রমিকের জায়গায় দাড় করান, তবে এই বারো হাজার পাঁচশত টাকার হিসাবটা রূপ নেয় এক নির্মম বাস্তবতায়।

বারো হাজার পাঁচশত টাকার জীবন কোন সাধারন গণিত নয়। এটি একটি নির্মম এবং অন্তহীন বেঁচে থাকার সংগ্রাম। কাগজে-কলমে হিসাব করে বারো হাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে একটি পরিবারের মাস চালানো বর্তমান অর্থনীতিতে অসম্ভব এক সমীকরণ।

সাভার - আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম এলাকায় একটি ছোট্ট বাসা ভাড়া নিতেই চলে যায় পাঁচ হাজার টাকা। রান্নার জন্য গ্যাসের বোতল কিনতে লাগে আরো প্রায় আড়াই হাজার টাকা। অর্থাৎ মাসের শুরুতেই আয়ের অর্ধেকের ও বেশি টাকা শেষ।

তারপর শুরু হয় আসল যুদ্ধ। খাবার কিনবেন কি দিয়ে ? সন্তানের স্কুলের খরচ দেবেন কি দিয়ে ? বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ কিনবেন কি দিয়ে ? নিজে অসুস্থ হলে চিকিৎসা করবেন কিভাবে ? মাসের শেষে যদি হাতে কিছুই না থাকে, তাহলে পরের দিন আবার কারখানায় যাওয়ার শক্তিটুকু আসবে কোথা থেকে ?

এই মানুষ গুলো বিলাসিতা চায় না। তারা শুধু বাঁচতে চায়।

তারা চায়, সন্তানটা যেন না খেয়ে ঘুমোতে না যায়। তারা চায়, অসুস্থ হলে ওষুধটা যেন কিনতে পারে। তারা চায়, মাস শেষে বাড়িতে টাকা পাঠিয়ে পরিবারের মুখে একটু হাসি দেখতে। তারা চায়, সারা জীবন শ্রম দেওয়ার পর অন্তত সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে।

যে শ্রমিকের ঘামে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ে, যে শ্রমিকের হাতে তৈরি পোশাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যায় - সেই শ্রমিকের নিজের জীবন যদি অনাহার আর অনিচ্ছতায় কাটে, তাহলে সেই উন্নয়নে অর্থ কি ?

একজন শ্রমিকের ঘামের মূল্য শুধু একটি সংখ্যায় মাপা যায় না। তার পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি সন্তানের ভবিষ্যৎ, একজন মায়ের ওষুধ, একজন বাবার স্বপ্ন। 

শ্রমিক দয়া চায় না, ভিক্ষা চায় না। শ্রমিক তার ঘামের ন্যায্য মূল্য চায়। শ্রমিকের ঘামেই দেশের অর্থনীতি সচল, অথচ সেই শ্রমিকদের বুকে যদি পুলিশের লাঠি আঘাত হানে তাহলে প্রশ্ন ওঠে - শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার চাইবার অপরাধটা কী ?

এটা কোন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। এটা কোন দল বা সরকারের বিরুদ্ধে শ্লোগান ও নয়। এটা শুধু একজন খেটে খাওয়া মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। 

সরকারের কাছে বিনীত জোরালো দাবি, জীবন যাত্রার বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও মানবিক মজুরি নির্ধারণ করুন।

লেখক - মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি,  কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com