ইবির স্টুডেন্ট'স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ৩৫৯ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের ছাত্রকল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন ‘স্টুডেন্ট'স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে ও আল-ঈমান দাওয়াহ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বৃত্তিপ্রাপ্ত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইউসুব আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইবির ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রহিম উল্যাহ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, আল-কুরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ফারুক, আইআইইআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম রাফি ও পরিচালক আবু তামিম এবং আল-ঈমান দাওয়াহ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আল-মামুন। এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ‘লার্ন টু লিড’ স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করতে সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতি বছর বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্য থেকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে মোট ৩৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের নৈতিক ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অতিথিরা বলেন, “ বৃত্তি অর্জন , এটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে নিজেকে।”
ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও জ্ঞান অর্জনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং জ্ঞানকেই প্রধান সম্পদ হিসেবে প্রাধান্য দিতে হবে। বড়ো কিছু অর্জনের জন্য বড়ো স্বপ্ন দেখতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ সাফল্যময় করে তুলতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ বলেন, “অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের ওপর নিজেদের পছন্দ বা ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে, বরং তাদের মনের মতো ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। ছোট শিক্ষার্থীরা নিজেদের সবকিছু বুঝদার মনে করলেও, তাদের উচিত বাবা-মায়ের কথা মেনে চলা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া। সফলতার অন্যতম শর্ত হলো, বাবা-মায়ের নির্দেশ মেনে সঠিক পথে চলা।