চট্টগ্রামে ১৪ চোরাই মোটরসাইকেল ও ৫ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী ও চকবাজার থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল এবং প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্য ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের ওজন ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাং।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল কাঠের বাংলো এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. সুমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিসহ ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোর চক্রের আরেক সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া নোয়াখালীর চরজব্বর থানা ও চট্টগ্রামের মীরসরাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানগুলোতে ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দায়ের করা একটি চুরির মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
দাওয়াতের কথা বলে স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইলাতুল নুসরাত নিপা (৩৬) নামে এক নারী দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে মোট ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর চকবাজার থানায় মামলা হয়। ওই দিনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিপাকে গ্রেপ্তার করে চকবাজার থানা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিপা জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো তিনি কোতোয়ালী থানার দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত নোভা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শুভ মজুমদারের (৩৬) কাছে বিক্রি করেছেন।
পরে গ্রেপ্তার নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। দোকানটির ম্যানেজার পুলিশকে জানান, নিপা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে পুরোনো ও নতুন স্বর্ণ কেনাবেচা এবং পরিবর্তনসংক্রান্ত ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে তিনি অলংকারগুলো কিনেছিলেন। পরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সেগুলো গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করা হয় বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানায়, দোকানের ম্যানেজারের দেওয়া তথ্য ও গ্রেপ্তার নারীর শনাক্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অলংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।