নওগাঁয় দূর্গাপূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে দস্যুতা, ২৪ ঘণ্টায় ২ জন গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পোরশায় শারদীয় দূর্গাপূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পোরশা উপজেলার পূর্বগ্রামের বাসিন্দা বনিতা (৩০) তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসে বাড়ি ফিরছিলেন। ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তাঁরা পোরশার নিতপুরগামী ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সরাইগাছী-নিতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ওবাইদুল্লাহ শাহর ব্রয়লার মুরগির খামারের পূর্ব পাশের গ্রামীণ সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় গলায় হাসুয়া ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি শাড়ির ব্যাগ, তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল, এক পাটি রুপার নূপুর এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ, জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) অরূপ রতন সরকার ও পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ১৮ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাপাহার থানার দিঘীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জেলার সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (দিঘীপাড়া) এলাকার মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ (মৃধাপাড়া) এলাকার মো. মহব্বতের ছেলে মো. সুমন ওরফে শাহিন (৩০)। তাঁদের কাছ থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা গ্রেপ্তার দুজনকে শনাক্ত করেছেন। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ সাতটি মামলা এবং সুমন ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।