লালনের দর্শন সম্প্রীতি ও মানবতার পথ দেখায়: খাদ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

‘লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক নন, তিনি মানবতার সাধক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক এবং সম্প্রীতির এক অনন্য কণ্ঠস্বর । তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, মানুষের মর্যাদা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা’—বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি ।

শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি । জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন । মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মনুষ্যত্ব । বর্তমান পৃথিবীতে লালনের এই দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক । এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলিত হবে না এবং ধর্মের কারণে বৈষম্যের শিকার হবে না ।

তিনি বলেন, ‘ভেদাভেদ নয়, সম্প্রীতি; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিভাজন নয়, মানুষের মিলন—লালন সাঁইয়ের দর্শন আমাদের সেই পথই দেখায় ।’ মত ও পথ আলাদা হলেও মানবতার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি ।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, লালনের গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মপরিচয় ও মানবমুক্তির গান । তাঁর সুরে বাংলার মাটির গন্ধ এবং কথায় জীবনের গভীর দর্শন ফুটে উঠেছে । লালনের অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শন পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলার বাউলসংগীত ও লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করা সবার দায়িত্ব ।

তিনি আরও বলেন, লালন সাঁই শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর গান, দর্শন ও মানবতার বাণী মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে । যত দিন মানুষ সত্যের সন্ধান করবে এবং মানবতার চর্চা করবে, তত দিন লালনের দর্শন প্রাসঙ্গিক থাকবে ।

বর্তমান সরকারের সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে কাজ করছে । দেশের প্রতিটি প্রান্তে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বাংলার সংস্কৃতিকে পরিচিত করাই লক্ষ্য । উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর নয়, সংস্কৃতিরও। শেকড়কে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে ।

নিজের জন্মভূমি মানিকগঞ্জের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মানিকগঞ্জের সন্তান । এই মাটি, এই মানুষ, এই জনপদ আমার অস্তিত্বের অংশ।’ তাঁর বাবা আমৃত্যু মানিকগঞ্জের মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবার সেই পথচলা তাঁর জীবনেও প্রেরণা ।

মন্ত্রী বলেন, যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে যাবেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন । এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা তাঁর কাছে অত্যন্ত আপন। মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জেলা কমিটির সদস্যসচিব শামীম বিশ্বাস ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী উম্মে সুমাইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাসাস সিংগাইর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জাসাসের শিল্পীরা । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক জুঁইরিরা ইসলাম নুপুর ।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com