এইতো জীবন চলে যাচ্ছে বেশ; অথচ আমাদের অভিযোগের নেই শেষ!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বিত্তিপাড়ার বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম (৫০)। পেশায় একজন তামাক শ্রমিক। সংসার জীবনে এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন, বাবা-মা ও ছোট বোনদের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। ছোট দুই মেয়ে স্থানীয় স্কুলে পড়ালেখা করে। সাইফুলের স্ত্রী স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বাসায় কাজ করেন। তিন বেলা খেয়ে মাসে ১২'শ টাকা মাইনে পান তিনি। সেই টাকায় কোনো রকমে দুই মেয়ের লেখাপড়া চলে।
পরিবারের এই অভাব-অনটনের মধ্যেই কাজের সন্ধানে ট্রেনযোগে পাঁচবিবি রেলস্টেশনে এসে নামেন সাইফুল। সকাল থেকে ঘুরে ঘুরেও কোথাও কোনো কাজ না পেয়ে এদিকে পেটের ক্ষুধা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
পাঁচবিবি পৌর এলাকার এক ব্যক্তির বাসায় গেলে তিনি মানবিক দিক বিবেচনা করে পলিথিনে করে কিছু ভাত, ডাল ও সবজি দেন। কিন্তু সেই খাবার নিয়ে পড়েন নতুন বিড়ম্বনায়। সাইফুল বলেন, "হোটেলে টাকা দিয়ে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। আবার অন্যের বাড়ির খাবার হোটেলে খেতে দিবে কিনা। প্লেট-গ্লাস-পানি দিবে কিনা সেই সংকোচে আর হোটেলে যাইনি। দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে পাঁচবিবি থানা মসজিদের অজুখানায় বসেই পলিথিনে আনা সেই ভাত-ডাল খেয়ে দুপুরের ক্ষুধা নিবারণ করেন। অজুখানার ট্যাপের পানি পাওয়া যাবে এজন্য।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার এই লড়াই দেখে তিনি শুধু একটি কথাই বলেন, "এইতো আমাদের জীবন।"
আরও পড়ুন
বোমা উদ্ধারের আতঙ্ক পেরিয়ে লালন আখড়াবাড়িতে জনস্রোত, শেষ হলো স্মরণোৎসব
জয়পুরহাটে ১১০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
পঞ্চগড়ের বোদায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ পরিবারকে সহায়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ আজাদ