বান্দরবানে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত-১৭

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

বান্দরবান প্রতিনিধি:

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌর এলাকা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বান্দরবান পৌরসভার মধ্যমপাড়া, উজানীপাড়া ও কালাঘাটা এবং সদর ইউনিয়নের লেমুঝিড়ি এলাকায় কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হন। রাস্তায় চলাচলের সময় শিশু, নারী ও পুরুষেরা এসব কুকুরের আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে উচাইসিং মারমা (৮) ও চং প্রেং ম্রো (৬) নামে দুই শিশু রয়েছে। তারা রাজগুরু বৌদ্ধবিহারে থেকে লেখাপড়া করে। সকালে রাস্তায় বের হলে একটি কুকুর তাদের কামড় দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মিল্টনপাড়ার বাসিন্দা চিংইয়ায় থুই মারমা (২৭) খামারে যাওয়ার পথে বঙ্গঝিড়ি সড়কে কুকুরের কামড়ের শিকার হন। লেমুঝিড়ি এলাকার লক্ষ্মী দেবী তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫) বাজার থেকে ফেরার পথে আগাপাড়ায় কুকুরের আক্রমণে আহত হন।

আহত কামাল হোসেন (৩০) বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ি মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা। বম হোস্টেল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কুকুরের কামড়ের শিকার হন। বর্তমানে তিনি বান্দরবান সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সোমবার শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একসঙ্গে এত রোগীকে টিকা দেওয়ায় হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিতে পারে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৬৭ জন, আগস্টে ১১৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১১৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে টিকা নিয়েছেন। গত তিন মাসে মোট ২৯৫ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। সোমবারের ১৭ জনকে নিয়ে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

বান্দরবান দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অং চ মং মারমা বলেন, বর্তমান সময়ে কুকুরের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় কুকুরগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদ বলেন, একসময় পথকুকুর নিধনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। তবে প্রাণী হত্যার বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে পথকুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলে প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হতো।

তিনি বলেন, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মূলত স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, আক্রান্ত স্থানে সাবান দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট প্রবহমান পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) এস এম মজুরুল হক বলেন, আগে বেওয়ারিশ কুকুর মেরে ফেলা হতো। তবে বর্তমানে এসব কুকুর নিধনের সুযোগ নেই। তাই বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com