সীতাকুণ্ডে বাপ্পি হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬, অস্ত্র উদ্ধার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যা এবং তাফসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলা
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুর্বৃত্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরে বাপ্পি ও তাঁর বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
পরে বাপ্পির বুকে গুলি করা হয়। অন্য একজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান।
গুলির শব্দ শুনে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাফসির আলম শাওনও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সামাজিকভাবে ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য, এ বিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করতেন অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন অস্ত্র নিয়ে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে তাঁরা বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন এবং অতর্কিত হামলা চালান।
প্রধান আসামিসহ ছয়জন গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
১. মো. আরিফ হোসেন (২৯): পিতা ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষু। ঠিকানা—মধ্যম মাহমুদাবাদ, দীঘির নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
২. ফখরুল ইসলাম (৩২): পিতা মৃত নুর আলম। ঠিকানা—অলিনগর, চৌকিদার বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
৩. আব্দুল মান্নান (২৮): পিতা আবুল কাশেম। ঠিকানা—নডালিয়া, বাড়বকুণ্ড।
৪. মো. ইফতেখার (৩৫): পিতা মো. মোজ্জামেল হক। ঠিকানা—অলিনগর, নতুন বদু বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
৫. আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫): পিতা মো. নজরুল ইসলাম। ঠিকানা—হাসনাবাদ, জিয়াজি হুজরের বাড়ি, মুরাদপুর।
৬. রনি ওরফে নুর আহাম্মদ রনি: পিতা মৃত জহির ইসলাম। ঠিকানা—মধ্যম মাহমুদাবাদ, দীঘির নালা, বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।