চট্রগ্রাম জেএম সেন হলে প্রথমবার যাচ্ছেন সরকারপ্রধান, তারেক রহমানকে ঘিরে বাড়তি উৎসবের আমেজ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন কোনো সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নগরের দুর্গোৎসবে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। পরে হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী জেএম সেন হল
জেএম সেন হল শুধু দুর্গাপূজার মণ্ডপ নয়, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় সভা-সমাবেশ, মতবিনিময় এবং শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে হলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আইনজীবী যাত্রামোহন সেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর ছেলে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত হলটির নামকরণ করেন। ১৯১৪ সালে যাত্রামোহন সেন হল নির্মাণের জন্য জমি ও তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। ১৯১৬ সালের ১৯ নভেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ১৯২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হলটির উদ্বোধন হয়।
হলটিতে বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, মহিমচন্দ্র দাস ও নেলী সেনগুপ্তার আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। স্থাপনাটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ বলেন, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী আসছেন। এ খবরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
সড়ক সংস্কার, সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা জোরদার
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সার্কিট হাউস থেকে কাজীর দেউড়ি, আসকারদীঘি, জামালখান ও চেরাগী মোড় হয়ে জেএম সেন হল পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং, খানাখন্দ মেরামত, সড়ক বিভাজকে রং, ফুলের চারা রোপণ ও আলোকসজ্জার কাজ করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপেও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পরিদর্শন, মোবাইল টহল, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুতি জোরদার করেছে।