জাতীয় ঐক্যই আগামীর বাংলাদেশের শক্তি: তারেক রহমান

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

‎রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি

‎ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের মানুষ যে ঐক্যের পরিচয় দিয়েছেন, সেই শক্তিকে ধারণ করেই এগিয়ে নিতে হবে আগামীর বাংলাদেশ। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী হাজার বছরও সব ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবেন।

‎মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী উপলক্ষে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‎তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ ভুলে মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। তাই বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

‎ভোট দেওয়া-না দেওয়া নির্বিশেষে সব নাগরিকের সরকার হতে চায় বর্তমান সরকার—এমন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে রংপুর মহানগরের উন্নয়নে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের প্রয়োজন অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।

‎জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কোনো বিতর্ক বা আপত্তি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়।

‎তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায়। রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি।

‎সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহানবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

‎এ সময় রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পেছনে সনাতন সম্প্রদায়ের অসচ্ছল মানুষের বিনা মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করতে নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রকল্পের কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে শেষ করার প্রত্যাশা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‎মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা শাখার সভাপতি রাম জীবন কুণ্ডু, রংপুর মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় ও সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

‎এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎রংপুরের কর্মসূচি শেষে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাজশাহীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি জনসভায় অংশ নেওয়ার পর চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com