চট্টগ্রামে অপহরণের চার দিন পর ব্যবসায়ী উদ্ধার, সাবেক সেনা-র্যাব সদস্যসহ আটক ৬
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছানকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনাসদস্য ও র্যাবের সাবেক সদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অপহরণের চার দিন পর বুধবার (২১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
আটক অন্য পাঁচজন হলেন মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এহছানকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণ করা হয়। এ সময় সুমন মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি র্যাবের পোশাক পরে তাঁকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে অপহরণকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপক মোজাফফর উদ্দিনকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে এহছানকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক সুমন মুন্সি (৩২) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের বাসিন্দা। দেলোয়ার হোসেনের (৪০) স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ কলাতলী এলাকায়। তিনি বর্তমানে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরলিয়া এলাকায় বসবাস করেন।
মো. ছলিম ওরফে সেলিমের (৩০) ঠিকানা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর সালবাগান ক্যাম্পের ই-৩ ব্লক। মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জয়নাল উদ্দিনের (২৮) বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার-ভালুকিয়া এলাকায়। মিজানুর রহমানের (২৯) বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকার হায়দার পাড়ায়।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে ব্যবসা করছিলেন এহছান
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেম বাজারের ব্যবসায়ী। তিনি একই এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের মেঝো ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এহছান দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মোজাম্বিকে ব্যবসা করার পর দেশে ফিরে স্থানীয়ভাবে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন।
ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।