হয়ে গেল মানিকগঞ্জের ঘিওরে জেলার সর্ববৃহৎ বিজয়া দশমীর ঐতিহ্যবাহী মেলা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসেছে জেলার সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী মেলা । শত বছরের পুরোনো এ মেলাকে ঘিরে ঘিওর ডি.এন. পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন হাজারো মানুষ । ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি নানা পণ্যের বেচাকেনা আর সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেলাটি পরিণত হয়েছে সম্প্রীতির মিলনমেলায় ।
বিজয়া দশমীর দিন দুপুরের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্ত ও আয়োজকেরা বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকেন । এর আগেই মাঠজুড়ে পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা । বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড় । জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এ মেলা দেখতে ।
মেলায় শিশুদের খেলনা, হরেক রকম খাবার, মৃৎশিল্পের সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা ধরনের গৃহস্থালি পণ্য বিক্রি হয় । পরিবারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার পাশাপাশি শিশুদের খেলনা ও মুখরোচক খাবার কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা । অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করেন এই মেলা থেকে পছন্দের জিনিস কেনার জন্য ।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, এ মেলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘিওরের শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য । প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ মেলায় আসছেন । সময়ের সঙ্গে আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন এলেও মেলাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগ আগের মতোই রয়েছে ।
স্থানীয় নারীরা বলেন, এ মেলা শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, আনন্দ ও মিলনের উপলক্ষও । সংসারের হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা ও নানা স্বাদের খাবার—সবই পাওয়া যায় এখানে । বছরের এই একটি দিন মাঠ, রাস্তাঘাট ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এ উপলক্ষে মাঠে বসানো হয় পরিদর্শন মঞ্চ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন । এ ছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন ।
ধর্মীয় উৎসব, লোকজ ঐতিহ্য ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ঘিওরের বিজয়া দশমীর মেলা হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক অনন্য আয়োজন । ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষের এই মিলনই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলাটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচিতি ।