পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতের আমেজ, তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধ
পঞ্চগড় | ২৬ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বদলে যাচ্ছে পঞ্চগড়ের প্রকৃতি। সন্ধ্যা নামতেই বাড়ছে ঠান্ডার অনুভূতি, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমছে শিশির। দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা থাকলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের আগমনী বার্তা অনুভব করছেন জেলার বাসিন্দারা। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে শীতের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেকেই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের গরম ও রাতের ঠান্ডার এই পার্থক্যে জেলাজুড়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত গভীর হওয়ার পর ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। অনেকেই রাতে ফ্যানের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। মধ্যরাতের পর পাতলা কাঁথা কিংবা কম্বল গায়ে জড়াতে হচ্ছে। ভোরে বাইরে বের হলে হিমেল বাতাসের পাশাপাশি ঘাস ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির চোখে পড়ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শীতের প্রভাব আগেভাগে অনুভূত হয়। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলার তেঁতুলিয়া ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় উত্তরের শীতল বায়ুর প্রভাব এখানে তুলনামূলক দ্রুত পড়ে। এ কারণে শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার খবর প্রায়ই আসে তেঁতুলিয়া থেকে।
এর আগে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।
তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় জেলার শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভোরে কাজে বের হওয়া পাথরশ্রমিক, চা-শ্রমিক ও দিনমজুরদের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৌসুমি বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ অঞ্চলে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে যাচ্ছে। এখন থেকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
কার্তিক মাসেই পঞ্চগড়ে শীতের এমন আগমনী বার্তা উত্তরের জনপদে ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাপমাত্রা কমার এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।