মাদারীপুরে আদালতের রায় মিললেও মিলছে না জমির দখল!১২ বছর যাবৎ হয়রানির অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
নাজমুল হাসান, মাদারীপুরঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকায় আদালতের রায় পক্ষে আসার দীর্ঘ সময় পরও ৮০ শতাংশ ফসলি জমির দখল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। জমির বৈধ দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে জাফরাবাদ এলাকার ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির প্রকৃত মালিক দাবি করে আসছেন আবু সাঈদ (পিতা: রশিদ বেপারী)। তাঁর অভিযোগ, মোক্তার হোসেন বেপারী ও তাঁর লোকজন গত প্রায় ১২ বছর ধরে জোরপূর্বক জমিটি নিজেদের দখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছেন। এর ফলে বৈধ মালিকরা নিজেদের জমি ও ফসলের সুফল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভুক্তভোগী পক্ষের দাখিল করা নথিপত্র ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালে আদালত জমির মালিকদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। কিন্তু আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পরও বিবাদীপক্ষের পেশিশক্তির কারণে তাঁরা জমিতে যেতে পারছেন না। উল্টো জমিতে গেলে ভুক্তভোগীদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই জমিটি আমাদের বাপ-দাদারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, অথচ আজও আমরা জমির দখল বুঝে পাচ্ছি না। বিবাদীরা রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি নিজেদের দখলে রেখেছেন। আমরা এখন ন্যায়বিচার ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চাই।”
এদিকে বিপরীত পক্ষের মোক্তার হোসেন বেপারী দাবি করেছেন, তাঁদের কাছে এই জমির বৈধ দলিল রয়েছে। আদালতের রায় সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ ও দলিল থাকা সত্ত্বেও আদালত কীভাবে এই রায় দিয়েছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি মাত্র অবগত হলাম। ভুক্তভোগী পরিবার যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”