ভেড়ামারায় অপরাধ দমনে তৎপর ওসি শামীম শেখ, ২০ দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার ২২
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি |
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ দমন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১৭ জন মাদক কারবারি ও পাঁচজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশি টহল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মানবিক ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ
অপরাধ দমনের পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় পুলিশের কয়েকটি পদক্ষেপও উল্লেখযোগ্য। রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করা এক মা ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার, নিখোঁজ তিন শিশুকে খুঁজে বের করা এবং অপহরণের শিকার দুজনকে উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানা গেছে।
এ ছাড়া শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে থানা পুলিশ। উৎসবকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: ওসি
ভেড়ামারা থানার ওসি মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরা ভেড়ামারা উপজেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত সাড়া দেওয়া, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ-জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানো প্রয়োজন।
কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন মনে হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাঁকে মারধর না করে দ্রুত পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়া বা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুলিশের সহায়তা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত অভিযান, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভেড়ামারায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।