পঞ্চগড়ের মাঠে তরুণদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ এএম
সঞ্জু বণিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ২৪ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গনে একসময় ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, ছিল প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পদচারণা ও সাফল্যের গৌরবময় ইতিহাস। সময়ের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্যে কিছুটা ভাটা পড়লেও নতুন করে মাঠমুখী হচ্ছেন তরুণরা। আর তাঁদের উৎসাহিত করতে ভোরবেলায় মাঠে নেমে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নিচ্ছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ভোরবেলায় স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি নানা ব্যস্ততার মধ্যেও খেলাধুলার জন্য সময় বের করে মাঠে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ, ক্রীড়াপ্রেমী ও নেটিজেনদের। অনেকেই মনে করছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন অংশগ্রহণ তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের মতে, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেপুটি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করে তুলতেও আগ্রহী। সময় পেলেই ভোরে মাঠে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় তরুণ ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক ক্রীড়াবিদরাও। নব্বইয়ের দশকে বোদা ক্রীড়া সংস্থার কয়েকবারের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হাসানুজ্জামান লাতু জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সোনালি অতীত স্মরণ করে বলেন, “পঞ্চগড় জেলা একসময় খেলাধুলায় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। এ এলাকার অনেক কৃতী খেলোয়াড় ঢাকা লিগ ও দ্বিতীয় বিভাগে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু মাঝখানে অনেক বছর আমরা খেলাধুলায় পিছিয়ে পড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই অবস্থা থেকে উত্তরণে মাননীয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিজেই ভোরবেলা মাঠে উপস্থিত হয়ে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ নতুন ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের জন্য ভীষণ অনুপ্রেরণার।”
এদিকে, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা, শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা। তাঁদের মতে, তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে পারলে সুস্থ জীবনযাপনের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় বলেন, “মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং তাদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “শত ব্যস্ততার মধ্যেও হঠাৎ ভোরবেলা খেলোয়াড়দের অনুশীলনে অংশ নিতে তাঁর সরাসরি মাঠে উপস্থিত হওয়া তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে একধরনের উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এ উদ্যোগ তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং ভালো মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল নয়। এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ, মানসম্মত খেলার মাঠ, আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং কার্যকর সাংগঠনিক উদ্যোগ। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ক্রীড়া সংগঠন, সাবেক খেলোয়াড় ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা করছেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের এই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পেলে পঞ্চগড়ের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। তরুণদের মাঠমুখী করার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, বিকশিত হবে নতুন প্রতিভা এবং জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চগড়ের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হবে।
ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ভোরের মাঠে এমন অংশগ্রহণ শুধু সাময়িক উৎসাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পঞ্চগড়ের ক্রীড়াঙ্গনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় রূপ নেবে।