কুবিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম

কুবি প্রতিনিধি :

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা । মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর এ স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মুতাসিম বিল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে একটি পোস্ট দেন মুতাসিম বিল্লাহ। পোস্টটিতে সনাতন ধর্মের প্রতিমা পূজা ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়। এসব মন্তব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ করেন সনাতনী শিক্ষার্থীরা। 

ওই পোস্টে মুতাসিম বিল্লাহ লিখেছেন, 'মানুষ যাদের সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুর দাতা, রক্ষাকর্তা ও রিজিকদাতা মনে করে পূজা-অর্চনা করেন, তাদেরই মানুষ তৈরি করেছে। পরে সেই মূর্তিগুলো পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পানিতে ডুবে থাকা মূর্তির কাঠ কয়েক দিন পর ভেসে ওঠে এবং তা দিয়ে জেলে বা তীরবর্তী এলাকার মানুষ রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। যাদের শেষ স্থান হয় ময়লা নর্দমা বা আপনার খাবার তৈরিতে আপনার বাড়ির গৃহিণীর আগুনের চুলায়, তারা আপনার কেমনে সৃষ্টি কর্তা হতে পারে? কেমনে তারা আপনার জীবন-মৃত্যুদাতা, রক্ষাকর্তা, রিজিকদাতা ইত্যাদি হতে পারে?'

ঐ পোস্টে তিনি আরও লিখেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। আমার সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুদাতা, রক্ষাকর্তা, রিজিক দাতা একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা। যার সম্পর্কে আপনি গবেষণা করলে তার ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন, ইনশা-আল্লাহ। যার বাণী পবিত্র কোরআনের একটি শব্দের অসত্য প্রমাণিত করার ক্ষমতা দেড় হাজার বছরেও কেউ দেখাতে পারেনি; বরং যারাই অসত্য প্রমাণিত করতে গিয়েছে, তারাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। মুসলিম হয়েছে।'

পোস্টটি প্রকাশের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানালে মুতাসিম বিল্লাহ পোস্টটি সরিয়ে নেন বলে জানা গেছে। এরপর নিজের ফেসবুক আইডিতে ক্ষমা চেয়ে আরও দুইটি পোস্ট করেন তিনি। 

ক্ষমা চেয়ে দেওয়া পোস্টে মুতাসিম বিল্লাহ লেখেন,

'প্রিয় অমুসলিম ভাই ও বোনেরা, আপনারা আমাদের দেশের সম্মানিত নাগরিক। আমরা আপনাদের অন্তর থেকে সম্মান করি। আমি এই পোস্টটি আপনাদের ধর্মকে অবমাননা বা অসম্মান করার জন্য করিনি। আমরা আমাদের ধর্মকে যেমন সম্মান করি, বিশ্বাস করি, আপনারাও আপনাদের ধর্মকে বিশ্বাস করেন এবং সম্মান করেন। আমি শুধু আপনাদের ধর্মীয় রীতিনীতি তুলে ধরেছি। এবং আমার মনে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে, সেগুলো শুধু উল্লেখ করেছি। আপনাদের ধর্মের কোনো রকম অবমাননা হবে, অসম্মান হবে, এমন কোনো লেখা আমার পোস্টে আমি উল্লেখ করিনি। আশা করছি, আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আমার পোস্টে শুধুমাত্র বাস্তবটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।'

 এদিকে প্রক্টর বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে সনাতনী শিক্ষার্থীরা গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্যের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, আগের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ বলেন, “বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, এ দেশ আমাদের সবার। কোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক বা অবমাননাকর মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়। মুতাসিম বিল্লাহর ফেসবুক পোস্টে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি প্রত্যাশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় অবমাননা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর সাহস না পায়।”

সহকারী প্রক্টর ড. মো: মঞ্জুর হোসাইন বলেন, লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটা ভিডিও পোস্ট করেছিল। প্রক্টর স্যার লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে জানালে ওই ছেলে তার পোস্ট ডিলিট করে দেয় এবং সে ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষমাও চেয়েছে। এখন যেহেতু কিছু শিক্ষার্থী একটা আবেদন জানিয়েছে প্রক্টর স্যারে সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিব।'

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com